গাজা সিটির প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনিকে জোরপূর্বক দক্ষিণে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। ভবিষ্যতে কোনো ইসরায়েলি সেনা বা বেসামরিক নাগরিককে অপহরণ করা হলে গাজা সিটির পুরো জনগোষ্ঠীকে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামো ধ্বংস এবং এলাকা দখলের হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ১৯৭৩ সালের ইয়োম কিপুর যুদ্ধে নিহত ইসরায়েলি সেনাদের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কাটজ এসব কথা বলেন।
কাটজ বলেন, ‘আমি সন্ত্রাসী সংগঠন ও তাদের সমর্থকদের ইরান থেকে এরদোয়ান পর্যন্ত সতর্ক করছি। একজন ইসরায়েলি সেনা বা বেসামরিক নাগরিককেও যদি অপহরণ করা হয়, তাহলে গাজা সিটির পুরো এলাকা, এর বাড়িঘর ও সন্ত্রাসী টাওয়ারসহ প্রায় ১০ লাখ বাসিন্দাকে দক্ষিণে সরিয়ে দেওয়া হবে।’
হামাস ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে ইঙ্গিত করে কাটজ আরও বলেন, গাজা ও লেবাননের ‘জিহাদি সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো’ যে ভাষা বোঝে, ইসরায়েলও সেই ভাষায় কথা বলবে। সেই ভাষা হলো, জনগণকে সরিয়ে দেওয়া, অবকাঠামো ধ্বংস করা এবং ভূখণ্ড দখল করা।
গাজা সিটি পৌরসভার হিসাবে, শহরটিতে প্রায় ১১ লাখ মানুষ বসবাস করেন। পুরো গাজা উপত্যকায় জনসংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। প্রায় তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধে উপত্যকার প্রায় পুরো জনগোষ্ঠী অন্তত একবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় হামাস। ইসরায়েলি সরকারি হিসাবে, ওই হামলায় ১ হাজার ২২১ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ৪৪ জন আগেই মারা গেছেন বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এরপর গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এ পর্যন্ত সেখানে ৭৩ হাজার ৯১৯ জন নিহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয়টি হামাস-নিয়ন্ত্রিত হলেও তাদের প্রকাশিত হতাহতের হিসাব সাধারণত নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।
সূত্র : আলজাজিরা, দ্য স্ট্রেইটস টাইমস
সময়ের আলো/ইউএমএইচ