গাইবান্ধার যক্ষ্মারোগ চিকিৎসাগারে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট, ওষুধের অনিয়মিত সরবরাহ ও বন্ধ থাকা এক্স-রে সেবাসহ নানা সমস্যায় ভুগছেন যক্ষ্মা রোগীরা। এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান ও প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসাসেবা সচল ও আধুনিকায়নের দাবিতে সিভিল সার্জন বরাবর একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক ছাত্রনেতা অতনু সাহা।
বুধবার গাইবান্ধা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে গিয়ে এই স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। এ সময় সিভিল সার্জনের উপস্থিতিতে আবেদনপত্রটি গ্রহণ করেন যক্ষ্মারোগ চিকিৎসাগার, গাইবান্ধার ভারপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ডা. হারুন অর রশিদ।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গাইবান্ধার যক্ষ্মারোগ চিকিৎসাগারটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সংকটে জর্জরিত। প্রতিষ্ঠানটিতে মেডিকেল অফিসার ও জুনিয়র কনসালট্যান্টের একাধিক পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি নার্স ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদও শূন্য থাকায় রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তব্যরত স্বল্পসংখ্যক কর্মী। এছাড়া যক্ষ্মা রোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সরবরাহ অনিয়মিত ও অপ্রতুল হওয়ায় রোগীরা নিয়মিত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে আবেদনপত্রে। রোগ নির্ণয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক্সরে সেবাও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর অতনু সাহা বলেন, যক্ষ্মার মতো একটি সংক্রামক ও জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রোগের চিকিৎসাকেন্দ্র যদি জনবল ও সরঞ্জাম সংকটে অচল হয়ে পড়ে থাকে, তাহলে তার প্রভাব শুধু ব্যক্তি রোগীর ওপর নয়, বরং পুরো এলাকার জনস্বাস্থ্যের ওপর পড়ে। তিনি বলেন, ছাত্র আন্দোলনের পর থেকে জনস্বার্থের বিভিন্ন বিষয়ে সোচ্চার থাকাটাকে দায়িত্ব মনে করেই তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন।
স্মারকলিপিতে জনস্বার্থ বিবেচনায় একগুচ্ছ দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানে শূন্য থাকা মেডিকেল অফিসার ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট পদে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিকিৎসক পদায়নের ব্যবস্থা করতে হবে, পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নার্স ও অন্যান্য শূন্য পদও অবিলম্বে পূরণ করতে হবে। এর সঙ্গে যক্ষ্মা রোগের প্রয়োজনীয় ওষুধের নিয়মিত ও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে, যাতে রোগীরা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এক্স-রে ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা কার্যক্রম দ্রুত চালুর দাবিও তোলা হয়েছে আবেদনপত্রে, যাতে রোগীদের বাড়তি খরচ ও ভোগান্তি কমে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসা, ফলোআপ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ সেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সার্বিক পরিবেশের মানোন্নয়ন ঘটাতে হবে। সবশেষে দাবি জানানো হয়, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে যক্ষ্মারোগ চিকিৎসাগারের চিকিৎসাসেবায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ সংকট তৈরি না হয়।
স্মারকলিপি গ্রহণকালে যক্ষ্মারোগ চিকিৎসাগারের ভারপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ডা. হারুন অর রশিদ দাবিগুলোর যৌক্তিকতা স্বীকার করে বলেন, জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে গাইবান্ধার সিভিল সার্জন স্মারকলিপি প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দাবিগুলো পর্যালোচনা করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং যক্ষ্মারোগ চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/এনএন