এক প্লেট ভাত, একটি আইফোন, একটি জীবন

ড. মো. আবু হাসান

মতামত

১৮ সেপ্টেম্বর বিকালে কুমিল্লার কোটবাড়ীতে আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়েছিল সপ্তম শ্রেণির ছাত্র অপ্রতিম। পরদিন তার মরদেহ

2026-09-24T04:29:11+00:00
2026-09-24T04:29:11+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মতামত
এক প্লেট ভাত, একটি আইফোন, একটি জীবন
ড. মো. আবু হাসান
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৯ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
১৮ সেপ্টেম্বর বিকালে কুমিল্লার কোটবাড়ীতে আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়েছিল সপ্তম শ্রেণির ছাত্র অপ্রতিম। পরদিন তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, মুঠোফোনের জন্য তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তিনজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত অবশ্য এখনও চলমান। অপ্রতিমের মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগম। একমাত্র সন্তানের মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় শোক ঘোষণা করেছে, ক্লাস ও নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভও করেছে।

এর এক দিন আগে খুলনায় নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আজমল হোসেনের মৃত্যু হয়েছে আরেক অস্বাভাবিক ঘটনায়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খান জাহান আলী হলের বিপরীতে একটি ছাত্রমেসে অন্যের ভাত খাওয়ার অপরাধে তাকে ছাদে নিয়ে মারধর করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি তদন্তাধীন। আজমলের বাবা সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে বিচার দিছি।’ তিনি আরও বলেছেন, কোর্ট-কাচারিতে যেতে চান না। একজন বাবার মুখ থেকে এই কথার ভেতরে অসহায়ত্ব আছে। একই সঙ্গে আছে বিচার পাওয়ার পথ নিয়ে গভীর অনাস্থার একটি ইঙ্গিত।

একটি আইফোন, এক প্লেট ভাত, একটি চুরির অভিযোগ, একটি সন্দেহ— এগুলোর কোনোটিই একজন মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার কারণ হতে পারে না। অথচ আমাদের শিক্ষাঙ্গন ও শিক্ষাঙ্গনসংলগ্ন পরিবেশে এমন এক ধরনের সহিংসতা বারবার দেখা যাচ্ছে, যেখানে অভিযোগ প্রমাণের আগেই একজনকে অপরাধী ধরে নেওয়া হচ্ছে, আর শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতাও কিছু মানুষ নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। এই ঘটনাগুলোকে শুধু বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখলে সমস্যার বড় অংশটি চোখের আড়ালে থেকে যায়।

আবরার ফাহাদের কথা মনে পড়ে। ২০১৯ সালে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ২০২৫ সালে হাইকোর্ট ওই মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন। তোফাজ্জল হোসেনের ঘটনাও একইভাবে অস্বস্তিকর প্রশ্ন রেখে গেছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে তাকে চোর সন্দেহে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। পরে ২১ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের শুরুতে সম্পূরক অভিযোগপত্রে আসামির সংখ্যা আরও বেড়েছে। ২০২৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছুরিকাঘাতে নিহত হন। পরে মামলায় সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জোবায়েদ হোসেনও ২০২৫ সালে হত্যার শিকার হন। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তার মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনাগুলোর কোথাও রাজনৈতিক ক্ষমতার সম্পর্ক আছে, কোথাও সন্দেহ, কোথাও ব্যক্তিগত বিরোধ, কোথাও অপরাধী গোষ্ঠীর সহিংসতা। তাই সব হত্যাকাণ্ডকে একই ছাঁচে ফেলা ঠিক হবে না। তবু একটি জায়গায় মিল আছে। কিছু মানুষের হাতে এমন ক্ষমতা জমা হচ্ছে, যার জোরে তারা অন্য একজনের জীবন, শরীর ও মর্যাদার ওপর নিজেদের শাস্তি দেওয়ার অধিকার বৈধ বলে ভাবছে। নৃশংসতা অনেক সময় হত্যার মুহূর্তে শুরু হয় না। তার আগে থাকে ছোট ছোট ক্ষমতার অনুশীলন। প্রথমে অভিযোগ। তারপর অপমান। তারপর দলবদ্ধতা। এরপর জেরা। সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের আগেই একজনকে অপরাধী ধরে নেওয়া। শেষে শাস্তি দেওয়ার অধিকার নিজের হাতে তুলে নেওয়া। সহিংসতা আসে তার পরে। এই পথটি একজন মানুষের ব্যক্তিগত আচরণ দিয়ে শুরু হতে পারে। কিন্তু এর সামাজিক পরিসর অনেক বড়।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ২০২৬ সালে অষ্টম শ্রেণির মেহেদী হাসানকে আইফোন চুরির অভিযোগে ছাত্রাবাসে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ ওঠে। মামলায় ছাত্র ও শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। চট্টগ্রামে ২০২৫ সালে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র রাহাত খানের মরদেহ কর্ণফুলী নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। তার চার সহপাঠীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরিবারের অভিযোগ ছিল, আগের একটি বিরোধের জেরে তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। সাতক্ষীরার নলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৩ সালে নবম শ্রেণির ছাত্র রাজপ্রতাপ দাসের মৃত্যুর ঘটনায় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়। পরিবার ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল, জন্মদিনের কেক কাটাকে কেন্দ্র করে তাকে মারধর করা হয়েছিল। চার শিক্ষক গ্রেফতার হয়ে কারাগারেও যান।

তাই শিক্ষাঙ্গনের নৃশংসতা শুধু ছাত্র বনাম ছাত্রের বিষয় নয়। সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক, আবাসিক জীবনের ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা, এমনকি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রান্তিক পরিবারের সম্পর্কও এর অংশ হতে পারে। আরেকটি বিষয় এখানে মনে রাখা দরকার। সব মানুষের মৃত্যু সমান সামাজিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে না। প্রতিবাদ নিজেও এক ধরনের সম্পদ। প্রতিবাদ করতে সময় লাগে, সংগঠন লাগে, নিরাপত্তা লাগে, সংবাদমাধ্যমে পৌঁছানোর সুযোগ লাগে, যোগাযোগ লাগে। সামাজিক ও রাজনৈতিক নেটওয়ার্কও অনেক ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। পিয়ের বুর্দিয়ু দেখিয়েছেন, মানুষের অবস্থান শুধু অর্থনৈতিক সম্পদ দিয়ে নির্ধারিত হয় না। সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও প্রতীকী পুঁজিও মানুষের সুযোগ, মর্যাদা ও প্রভাবকে প্রভাবিত করে। শিক্ষাঙ্গনে এই পুঁজির গুরুত্ব আরও বেশি। একজন শিক্ষার্থী শুধু একজন ব্যক্তি নয়। সে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কোনো হলের সদস্য, কোনো বিভাগের পরিচয় বহনকারী। কখনো সে কোনো সংগঠন বা নেটওয়ার্কের সঙ্গেও যুক্ত। ফলে কোনো মৃত্যু খুব দ্রুত একটি বড় ‘আমাদের’ পরিচয়ের অংশ হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে একই শহরে একই বয়সের আরেকজন তরুণ মারা গেলেও তার মৃত্যু হয়তো সেই পরিসর পায় না।

তা হলে কোনো মৃত্যু কখন ‘আমাদের’ মৃত্যু হয়ে ওঠে, সেটি বোঝা দরকার। চার্লস টিলির কাছ থেকে আমরা জানি, সম্মিলিত প্রতিবাদ হঠাৎ আবেগের বিস্ফোরণ মাত্র নয়। এর সঙ্গে সংগঠন, দাবি তোলার সুযোগ, সামাজিক যোগাযোগ এবং বিদ্যমান ক্ষমতার কাঠামোর সম্পর্ক থাকে। তাই কোনো মৃত্যুর পর প্রতিবাদ হলো কি হলো না, সেটুকু দেখলেই হবে না। দেখতে হবে কে প্রতিবাদ সংগঠিত করতে পারল, কে পারল না, কার কণ্ঠ দ্রুত পৌঁছাল, আর কার কণ্ঠ পৌঁছাতেই পারল না।
এই জায়গা থেকেই শিক্ষাঙ্গন নিয়ে আরও বড় প্রশ্ন আসে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে মানুষ তৈরির প্রতিষ্ঠান বলি। কী ধরনের মানুষ তৈরি করছি আমরা? বিশ্ববিদ্যালয় শুধু চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, গবেষক বা আমলা তৈরি করে না। এখানে তৈরি হয় পরিচয়, মর্যাদা, নেটওয়ার্ক, সাংস্কৃতিক পুঁজি এবং ক্ষমতার ভাষা। একজন তরুণ এখান থেকে শেখে কার সঙ্গে কথা বলতে হয়, কোন দরজায় পৌঁছানো যায়, কার কথা গুরুত্ব পায়, কার কথা উপেক্ষিত থাকে। এই শিক্ষা যদি তাকে অন্যের মর্যাদা স্বীকার করতে শেখায়, তা হলে বিশ্ববিদ্যালয় তার কাজ করছে। কিন্তু সে যদি শিখে যায় নিজের দল বড়, নিজের হল বড়, নিজের প্রতিষ্ঠান বড়, নিজের পরিচয় বড় এবং অন্যের জীবন তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ, তা হলে সমস্যা শুধু পাঠ্যসূচিতে নেই। সমস্যা প্রতিষ্ঠানের সামাজিকীকরণেও আছে।

আজমলের ঘটনাটি এই জায়গা থেকে দেখার মতো। তিনি নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। থাকতেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের বিপরীত পাশের একটি মেসে। ওই মেসে বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকতেন বলে সংবাদে এসেছে। একজন মানুষকে কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে দলবদ্ধভাবে শাস্তি দেওয়ার পরিস্থিতি কীভাবে তৈরি হলো, সেটি তদন্তের বিষয়। কিন্তু সামাজিক প্রশ্নটি আরও বড়। একটি ছাত্রমেস কীভাবে এমন জায়গায় পরিণত হয়, যেখানে আদালতের বদলে কয়েকজন মানুষ নিজেরাই বিচারক হয়ে ওঠে?

এখানে শিক্ষাঙ্গনের সঙ্গে সময়ের রাজনৈতিক অর্থনীতির একটি সম্পর্কও আছে। মানুষের জীবনের সবচেয়ে সীমিত সম্পদ তার সময়। কাউকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা, জেরা করা, অপমান করা, ভয় দেখানো বা মারধর করা মানে শুধু তার শরীরে আঘাত করা নয়। তার নিজের সময় ও নিজের জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণও কেড়ে নেওয়া। শেষ পর্যন্ত হত্যার চূড়ান্ত রূপ হলো একজন মানুষের অবশিষ্ট জীবন-সময় পুরোপুরি কেড়ে নেওয়া। তারও আগে থাকে সময়ের ওপর ছোট ছোট দখল।

এটিকে সময়ের আধিপত্য হিসেবে দেখা যায়। আর মৃত্যুর পর শুরু হয় আরেক ধরনের বৈষম্য। কে দ্রুত বিচার পাবে? কার পরিবার মামলা চালাতে পারবে? কে আইনজীবী পাবে? কার কাছে সংবাদমাধ্যম যাবে? কার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বিবৃতি দেবে? কার জন্য শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামবে? ন্যায়বিচারের সময়ও তাই সবার জন্য সমান নয়।

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে ২০২৬ সালের আগস্টে হত্যা করা হয়। পুলিশ চারজনকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা জানিয়েছে। পরে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। তদন্ত নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নও উঠেছে। এই ঘটনায় বিচার দাবিতে রংপুর জিলা স্কুলের বর্তমান শিক্ষার্থীসহ নাগরিকরা প্রতিবাদ করেছে। এই ঘটনাটিও আমাদের ভাবায়। একজন শিক্ষক অবসর নেওয়ার পর তার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক কোথায় থাকে? তার সামাজিক পরিচয় কি ন্যায়বিচারের জন্য অতিরিক্ত সামাজিক পুঁজি তৈরি করে? তার পাশে দাঁড়ানোর মতো মানুষ কি বেশি পাওয়া যায়? প্রশ্নগুলো অস্বস্তিকর। তাই হয়তো প্রয়োজনও আছে।

আমরা প্রায়ই বলি, শিক্ষার উদ্দেশ্য মানুষ তৈরি করা। মানুষ তৈরি হওয়ার পরীক্ষা আসলে পরীক্ষার খাতায় হয় না। ডিগ্রির সনদেও হয় না। বিসিএসের ফলাফলেও নয়। মানুষ হওয়ার পরীক্ষা হয় যখন তার হাতে ক্ষমতা আসে। যে ছাত্র আজ অন্য একজন ছাত্রকে চোর বলে পেটায়, কাল সে কোনো অফিসে বসতে পারে। যে আজ নিজের গোষ্ঠীকে সত্যের চেয়ে বড় মনে করে, কাল সে কোনো প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। যে আজ দুর্বল একজন মানুষকে বিচার ছাড়াই শাস্তি দেওয়াকে স্বাভাবিক ভাবে, কাল সে হয়তো আইন, প্রশাসন বা সংগঠনের ক্ষমতা ব্যবহার করবে। তাই শিক্ষাঙ্গনের নৃশংসতা কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের বিচ্ছিন্ন কাহিনি নয়। এটি ভবিষ্যতের সমাজ ও রাষ্ট্রের চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলে। আমরা কাকে শিক্ষিত করছি, সেটি যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি সে শিক্ষার ভেতর দিয়ে কী ধরনের মানুষ তৈরি হচ্ছে। অভিযোগ শুনে সে কি প্রমাণ খুঁজবে, নাকি দলবল জড়ো করবে? ক্ষমতা পেলে সে কি তার সীমা বুঝবে, নাকি ক্ষমতাকেই সত্য ভাববে? নিজের মানুষ আর বাইরের মানুষের মধ্যে পার্থক্য করলেও সে কি অন্যের জীবন, মর্যাদা ও সময়ের মূল্য স্বীকার করবে?

এক প্লেট ভাতের অভিযোগ, একটি আইফোনের লোভ, একটি চুরির সন্দেহ কিংবা একটি সামান্য বিরোধ কখনোই হত্যার কারণ হতে পারে না। কিন্তু যে সামাজিক পরিবেশ এসব তুচ্ছ ঘটনাকে একজন মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতায় পরিণত করে, সেটি বদলাতে না পারলে শুধু হত্যাকারী বদলাবে। নৃশংসতার সংস্কৃতি বদলাবে না। শিক্ষার আসল হিসাব তাই কতজন ডাক্তার, প্রকৌশলী, শিক্ষক বা আমলা তৈরি হলো, সেটি দিয়ে শেষ হয় না। হিসাবটা আরও কঠিন। আমরা কতজন মানুষ তৈরি করতে পারলাম?


লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, শহিদ বুদ্ধিজীবী সরকারি কলেজ, রাজশাহী
মতামত লেখকের নিজস্ব


সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে
  বিষয়:   এক  প্লেট ভাত  আইফোন  জীবন 


Advertisement
Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: