টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার আকুয়া এলাকায় ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক বসতবাড়ির ভেতরে ‘মিঠু বিড়ি’ নামের একটি কারখানা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। শাহিন মিয়ার মালিকানাধীন এই কারখানাটির কারণে স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানা থেকে উৎপন্ন বিড়ি তৈরির কাঁচামাল ও প্রক্রিয়াজাতকরণের তীব্র গন্ধ আশপাশের বাড়িঘরে ছড়িয়ে পড়ছে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা এই কটু গন্ধে পরিবারগুলো স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে না। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ ও শ্বাসকষ্টের রোগীরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে এ গন্ধ নেওয়ার ফলে অনেকের মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব ও শ্বাসকষ্টের মতো শারীরিক উপসর্গ দেখা দিচ্ছে।
কারখানাটি কীভাবে ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র পেয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। আদৌ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিবেশগত ছাড়পত্র রয়েছে কি না কিংবা কোনো তদারকি দল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য জোর দাবি উঠেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, পরিবেশ অধিদফতর, স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা দ্রুত সরেজমিনে আকুয়া এলাকার এই বিড়ি কারখানাটি পরিদর্শন করুন। ছাড়পত্র যাচাইসহ স্থানীয়দের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ভোগান্তির সত্যতা নিশ্চিত করে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আবাসিক এলাকায় কারখানা চালানোর বিষয়ে জানতে চাইলে মালিক শাহিন মিয়া নিজের দায় কিছুটা এড়িয়ে গিয়ে বলেন, শুধু আমার কারখানা নয়, এরকম আরও অনেক কারখানা আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠেছে। আমি পরিবেশ অনুযায়ী কারখানা চালাচ্ছি।
তবে আবাসিক এলাকায় বিড়ি কারখানার ছাড়পত্র পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক তাপস চন্দ্র পাল। তিনি বলেন, এটি কোনোভাবেই পরিবেশগত ছাড়পত্র পাওয়ার যোগ্য নয়। আবাসিক এলাকায় কারখানাটি কোনো নিয়মেই চালানো যাবে না। আমরা বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখছি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই