শরৎ
আইউব সৈয়দ
নতুন সৌন্দর্যের ভোরে
স্বকীয়তার ‘শরৎ’ চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করে,
প্রকৃতির
সমৃদ্ধ দিনলিপির সত্তায়
চেনা যায় বেশ সম্প্রীতি
স্বস্তির অবাধ চলাফেরা
আর বৈষম্যহীন লাবণ্য;
চমৎকৃত ব্যাকুল
স্বর-সুরে
জীবনের ব্যাখ্যা করে!
চারদিকে শিউলির খ্যাতি
নিয়ম মেনে উচ্ছ্বসিত
প্রতিধ্বনিতে;
গোপনতা নেই, গতিতে মিলছে...
ভেতরকার সব বৈশিষ্ট্য যে
‘শরৎ’ রোমাঞ্চ জানে বটে।
ভালো নেই
নাহারফরিদ খান
ভালো নেই। শুধু ভালো থাকার আকুলতা
সন্ধ্যামালতী এখন বাড়ায় না ব্যাকুলতা।
আমি যেন আগের আমি নেই
তুমিও কি আছ অচেনা সেই!
জীবনের বিবর্ণ কিছু স্মৃতি
এখন জঞ্জাল, প্রেমপ্রীতি
এখন দুর্লভ প্রজাতির মতো
যত্নে-অযত্নে রাখো অবিরত
টবে ফোটা ফুল নয় যেন ঝুলন্ত অর্কিড
তোমার কাছে প্রত্যাশা মিসরের পিরামিড।
এখনও নিমগ্ন গোধূলি শেষে সন্ধ্যা আসে
লালটিপ আর জামদানি থাকে পরবাসে
প্রিয় বইগুলোতে জমেছে ধূলো
যেটুকু সুরভিত নির্যাস ছিল
অযত্নে-অবহেলায় হারিয়েছি তাও
মুগ্ধ চোখে যদি আর না তাকাও
সব ভেসে গেছে আকাঙ্ক্ষার নিচে
আমি পড়ে আছি পৃথিবীর পিছে
কত কি হারায় জীবনে লেনদেনের ভিড়ে
না পাওয়ার বেদনাটুকু রাখিনি তো নীড়ে।
ধীরে ছুঁতে হয়
কানিজ পারিজাত
ম্যাপললিফ রঙিন হতে অপেক্ষা করে
শরতের—
প্রস্ফুটনে নিশিগন্ধা খোঁজে
মূর্ত সময়—
আকাশগঙ্গায় ছুটে চলে যে ধূমকেতু,
সেও পাড়ি দেয় সৌরসময়—
লিটমাসও রং বদলাতে খুঁজে ফেরে
দ্রবণ-সময়—
তটরেখা থেকে মহীসোপান—
সুমেরু থেকে কুমেরু—
গন্তব্যে পৌঁছাতে সবারই লাগে
সময়...
মনটাও তাই... ধীরে ছুঁতে হয়...
তাড়াহুড়ো নয়... চাই গ্রহণসময়!
নোঙর না ফেলেই ফিরে যায়
কোন সওদাগর?
অতটা তাড়া কীসের?
ঘাটে যে মোহনসময়...!
একটু দেখা করতে চাই
কামরুল আহসান
আমি কি তোমার সঙ্গে দেখা করতে পারি?
না, শুধু বিনীত প্রার্থনাই নয়— প্রচণ্ড আকাঙ্ক্ষাও।
আজ, কাল, পরশু—
দুয়েক দিনের মধ্যেই হতে হবে, এমনটা নয়।
একটু দেখা করতে চাই।
ভেব না— আমি তোমার হাত ছোঁব না,
ছোঁব না তোমার অঙ্গুরীয়।
অভিযোগ তো নয়ই—
জানতেও চাইব না, ‘তুমি কেমন আছ?’
ও, আমি তোমার চোখ দেখেই বুঝে নিতে পারব।
আমি শুধু একটু দেখা করতে চাই।
চোখের ভাষা পড়ে নিতে চাই নিজের মতো।
বাতাস অকৃপণতায় যদি চুলের সুবাসটুকু দেয়,
ওতেই আমি তৃপ্ত।
আমি শুধু একটু দেখা করতে চাই,
পাঁজরবন্দি করে নিতে চাই চোখের শব্দকথা।
আমার বেঁচে থাকার জন্য
তোমার চোখেভাসা শব্দগুলো বেশ দরকার।
ধলেশ্বরী
মাসুদ অর্ণব
সগর্বে বলি— আমারও আছে একজন ঈশ্বরী
কখনো করি না গোপন— নাম তার ধলেশ্বরী;
ধলেশ্বরী ঈশ্বরী হয়ে আছে বিবর্ণ এই জীবনে
শূন্যতার ঢেউয়ে ভেসে বেড়াই না জনে জনে।
ধলেশ্বরী শুধু প্রিয় নদী না প্রিয় রমণীও বটে
কত ঢেউ হৃদয় ছুঁয়ে যায়— যখন দাঁড়াই তটে।
আমি তো জানি ধলেশ্বরীর প্রতি আমার কেমন দৃষ্টি
দীর্ঘপথ হাঁটা জীবনেও কি পূর্ণতা পায় কোনো সৃষ্টি?
অজানার মাঝেও জেনেছি— আমি প্রকৃতির অনুদান
আমার ঈশ্বরী আমার ভেতরে বাইরে থাকুক বহমান।
সময়ের আলো/আতা