গ্রাফিক : সময়ের আলোহয়ো না রাধা
নাহারফরিদ খান
সখা হে চাও যদি এই মন
চলো তবে মথুরা, বৃন্দাবন
দেখিব রাধাকৃষ্ণ ভালোবাসা
অমø-মধুর সে প্রেম সর্বনাশা
প্রেমের এমনই রীতি-নীতি
রাধার কি যে করুণ মিনতি
সইতে-কইতে না পারা যায়
রাধার বঁধুয়া আন বাড়ি যায়
কেমনে বাঁধিবে পাষাণ হিয়া
বিরহ অনলে যায় যে জ্বলিয়া
অবুঝ প্রেম রাধারে কাঁদায়
রাধা হতে এ মন নাহি চায়
চলো তবে মথুরা, বৃন্দাবন
দেখিব গোপীপ্রেম নিদর্শন
প্রেমিক হৃদয় হয়ো না রাধা
এ প্রেমে রয় না হৃদয় বাধা।
কবির কলম
আতিয়ার রহমান
অন্ধ কবি মিথ্যে, গিবত
ছড়াও ঘৃণা রোজ
মুক্তবোধের আকাশ তোমার
হচ্ছে যে নিখোঁজ।
ব্যক্তি পাপে নিজেই দায়ী
একক অপরাধে
উসকানিতে সঙ্ঘ পাপের
দায় নেবে নিজ কাঁধে!
তুমি যদি বিশ্বাসী হও
সহজ সত্য বোধে
নিজকে কেন জলাঞ্জলি
দিচ্ছ হাওয়াই ক্রোধে!
আলো ছায়ার খেলা চলে
নিত্য কোলাহলে
কবির কলম হারায় কী গো
গড্ডলিকার জলে!!
ধ্যানমগ্ন রাত্রি
শেলী সেনগুপ্তা
এসো,
তুমিও ধ্যানমগ্ন হও আমার মতো
যে আমি
রাত্রি ধারণ করেছি কাকতাড়ুয়ার বিশ্বাসে
চষা জমিনের আলপথে
বিপ্লবের মন্ত্র জঁপে
ইচ্ছেরা আজ ফিরেছে
একান্ত নিঃসঙ্গ এই আঙিনায়
খরস্রোতা নদীর মতো বয়ে যেতে
মঙ্গাক্রান্ত ঠোঁটে, ধূমায়িত পেয়ালার অবয়বে
ইচ্ছেরা দাঁড়িয়ে আছে নির্মাণ শ্রমিকের নিমগ্নতায়...।
সৃষ্টির আনন্দে
আরিফ মঈনুদ্দীন
শব্দের সঙ্গে বিরামহীন মিতালির এ এক অপূর্ব সলা
কোথা থেকে কোন পথে আকাশ-পাতাল চষে এসে
বসে পড়ে নির্জনে গোপন কোনো কুঠুরিতে,
তারপর চলে ভেতরের কর্মী বাহিনীর মার্চপাস্ট
যথাযোগ্য মর্যাদায় অভিষিক্ত কলমের পবিত্র কালিতে
একটির পর একটি— বাক্যের পর বাক্য নৈঃশব্দ্যকে
এফোঁড়-ওফোঁড় করে নির্মাণের আনন্দে সৌহার্দ-সম্প্রীতির
গৌরবে-সৌরভে সেঁটে বসে সমঝদার আপনজনের হৃদয়ে
নির্মাণের ষোলোকলা পূর্ণ হলে আপদমস্তক দেখে নিয়ে
লাইন ধরে দাঁড়িয়ে যায়—
অর্পণের কুশলী ডালায় ফুটতে থাকে ফুল
স্তবক স্তবক রোশনাই নিয়ে চারদিকে
সৈনিকবেশে ছড়িয়ে পড়ে কর্মী বাহিনীর দল,
সিংহাসনে অভিষিক্ত রাজার মুকুটে জুটতে থাকে
একটির পর একটি পালক
সোনা-রুপা-হীরা-মুক্তা-জহরত নয়— তারচেয়েও দামি,
বিরানভূমিতে আরাধ্য ফসল
শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে যে জমিন ছুঁয়ে যায় হৃদয় কোমল
সে মৃত্তিকার কর্ষণে যার হাতে উঠে আসে লাঙলের ফলা—
তার হাতে ফলে সোনার ফসল— ফুলে-ফলে ভরে যায় ডালা
অবাক বিস্ময়ে চোখ রাখি— এত ভালো লাগে!
এত ভালোলাগা কোথা থেকে আসে!
সৃষ্টির আনন্দে কণ্ঠ জড়িয়ে ধরে মধুর ভালোবেসে।
স্মৃতির আড়ালে
বদরুল হায়দার
স্মৃতির আড়ালে মুখ লুকিয়ে প্রীতির ঘরে জেগেছে সকাল।
ফলত গাছের চোখ ঝুল বারান্দার তারে চক্ষুশূল মশগুলে
শত সাধনায় তৈরি করে মহাকাল।
সোনার বরণ পাখি প্রাণের উদাহরণ শেষে
বারণ ও কারণের দোষে অবকাশে হারায় যৌবন।
বেলাশেষে বিচ্ছিন্নতার মনোবিকাশে চোখের আগাম দুরাভাসে তুমি হতাশা পোষণ করো বিনা চাষে।
মেয়াদপূর্তির চুক্তিসহ বিনিয়োগ প্রযুক্তির অচল তুলনা চলে লাইফ স্টাইলে।
তোমার ছলনা আড়ি পেতে বসে থাকে মনে।
নীলনকশার ব্যর্থতায় শঙ্কামুক্ত থেকেছি গোপনে।
তুমি যৌথ অভিমানে মনের ট্রাইব্যুনালে জারি করো
খেলাপি প্রেমের বাণী।
প্রবণতা বাড়ছে প্রেম ও দাসত্বের।
চলছে পরীক্ষা ছাড়া ফিটনেস।
অকাতরে ঘরে ঘরে চলে বাঁকবদলের প্রাইভেট।
কর্তৃত্ব তোমার ছলনায় বাসা বাঁধে প্রাণে। তুমি প্রেমের ডিজিটে ফ্রি-ইন্টারনেটে টেনে আনো গ্লানি। আমি স্মৃতির আগুনে পুড়ে হই বেদনা সন্ধানী।
দিগন্তের রূপ বদলে যাবে
বাবুল তালুকদার
দিগন্তের রং-বদলে তারুণ্যের অধঃপতন
অন্যায়ের পথে চলে অন্ধকারে
বজ্রপাতের আগুন জ্বলে মানব-অন্তরে
প্রতিদিন প্রতিমুহূর্তে শ্লীলতাহানি
দুশমনের কালোহাত জাগে
দিনদিন আলো থেকে অন্ধকারে
বৃক্ষ-মাটি ভুবনের চারপাশ থমথমে
শোকের মাতম সারা বিশ্বে
কাঁপে মন থরথর
দস্যুর কালো থাবা— হুংকার
প্রকৃতির চারপাশে চেনা মানুষ অচেনা
রং বদলায়
মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে মানুষ
তবু নির্যাতনের কূটকৌশল রাতদিন চলে
কতদিন চলবে?
নরপিশাচের দল— থামাও তোমার নষ্টামি;
জানি, কালো হাত ভেঙে যাবে চূর্ণবিচূর্ণ হবে
এ-দিন বদলাবে নিশ্চয়
ঝলমল করে হাসবে আগামীর পৃথিবী!
ছিটকে যাবে— নিশ্চিহ্ন হবে
থাকবে না এ-অন্ধকার।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে