প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৬ এএম
গ্রাফিক : সময়ের আলো বৃষ্টিভেজা হেমন্তে
এম আব্দুল হালীম বাচ্চু
হেমন্তের এই বৃষ্টি যেন
মধুর মধুর লাগে,
ভেজা ধানের সবুজ ক্ষেতে
নতুন স্বপ্ন জাগে।
মেঘের ছায়ায় পেখম মেলে
ময়ূর নাচে তালে,
শালিক পাখি নেচে বেড়ায়
ডুমুর গাছের ডালে।
পরান দাদার ধানের পাতা
হাসে বৃষ্টির জলে,
খোকা-খুকি আশ্রয় খোঁজে
মায়ের আঁচলতলে।
বৃষ্টি শেষে সোনার রোদ
ঝিলিক দিয়ে হাসে,
মেঘ-বৃষ্টি আর রোদের খেলা
প্রাণে স্বস্তি আনে।
ডেঙ্গু মশার সভা
জনি সিদ্দিক
এডিস মশা সভা ডাকে
ডোবার ধারে ওই,
ভন-ভনিয়ে মশার দলে করে যে হইচই।
দলপতি দরাজ গলায়—
বলে, ‘শোনো ভাই,
ডোবা-নালা সব খানেতে বসত গড়া চাই।
কয়েল কিংবা ধোঁয়ার মেশিন
ওসব কিছু নয়,
নকল বিষে ভরা সে তো কেউ পেয়ো না ভয়।’
হাঁটু ভাঙা একটা মশা
পেট ফুলিয়ে কয়,
মানুষ ভাবে চালাক ওরা আসলে তা নয়।
মশার ভয়ে বন্দি তারা
মশারি দিন রাত,
ডেঙ্গু থেকে ভয়ংকরী তাদেরই সংঘাত।’
জমা পানি ফেলে দিয়ে
রাখলে শহর সাফ,
ধ্বংস হবে বংশ মশার তবেই পাবে মাফ!
খেলায় বেলা যায়
মজনু মিয়া
বেশ জমেছে খেলার সময়
আমরা কজন মিলে,
কদমতলায় বসছে আসর
শান্তি পাই আজ দিলে।
খেলতে খেলতে কখন যেন
বেলা চলে যায়,
খেলা ফেলে যেতে বলে
জলদি আমার মায়।
আসছি আসি বলেই যাচ্ছি
সন্ধ্যা হয়ে এলো,
পেছন থেকে মা যে কখন
ধরে নিয়ে গেল।
হেমন্ত বরণ
মুহাম্মদ রফিক ইসলাম
পুব আকাশে ওঠে রবি
রোদের ছায়া ঘাসে,
শিশিরগুলোর ঠোঁটে যেন
মণি-মুক্তো হাসে।
সেই হাসিতে পাখিগুলো
সুর তুলেছে গানে,
বন-বনানী মুখরিত
নতুন ভোরের তানে।
ফুলের শোভায় সুশোভিত
স্নিগ্ধ ভোরের হাওয়া,
পাখনা মেলে প্রজাপতির
রঙিন আলো চাওয়া।
আলোয় আলোয় ভরুক ধরা
নতুন সূর্য পেয়ে,
হেমন্তকে বরণ করি
নতুনের গান গেয়ে।
হেমন্ত এলো
নুশরাত রুমু
ঝিকিমিকি রোদের ঝিলিক
সবুজ ধানের ক্ষেতে
গাছের পাতা নেচে ওঠে
বায়ুর সাথে মেতে।
মেঘের তাঁবু ঢাকল আকাশ
সূর্য ঢেকে গেল
প্রকৃতি আজ দেয় জানিয়ে
হেমন্ত যে এলো।
নদীর পাড়ে কাশফুলেরা
মলিন চোখে হাসে
শরৎ বাজায় বিদায়ঘণ্টা
শিশির পড়ে ঘাসে।
আমন ধানের সুবাস পাব
আর কটা দিন পরে
কিষান বধূ ব্যস্ত রবে
উঠোন কিংবা ঘরে।