হেমন্তের ঝড়ে আমি ঝরিব যখন

ফরিদ আহমদ দুলাল

সাহিত্য

প্রকৃতি পর্যায়ে রবীন্দ্রনাথ বেশ কিছু গান লিখেছেন। সেসব গানের মধ্যে প্রবলভাবে আছে বসন্ত ও বর্ষার গান (বসন্তের গান ৯৫টি আর

2026-10-23T19:29:33+00:00
2026-10-23T19:29:33+00:00
 
  শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬,
৭ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
সাহিত্য
হেমন্তের ঝড়ে আমি ঝরিব যখন
ফরিদ আহমদ দুলাল
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৯ পিএম 
গ্রাফিক সময়ের আলো
প্রকৃতি পর্যায়ে রবীন্দ্রনাথ বেশ কিছু গান লিখেছেন। সেসব গানের মধ্যে প্রবলভাবে আছে বসন্ত ও বর্ষার গান (বসন্তের গান ৯৫টি আর বর্ষার গান ১১৩টি) শরৎ, শীত এবং গ্রীষ্ম ঋতু নিয়ে আছে যথাক্রমে ৩১টি, ১৪টি এবং ২৫টি গান। হেমন্ত ঋতু নিয়ে আছে মাত্র ৩টি গান; আমার মনে প্রশ্ন জাগল, কেন? কেন রবীন্দ্রনাথ হেমন্তকাল নিয়ে এতটাই নিঃস্পৃহ থাকলেন? আমার নিকটতম মানুষ, যার কাছে আমি সাহিত্যবিষয়ক যেকোনো প্রশ্নের প্রথম উত্তর খুঁজি, তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, কেন? তিনি অকপট উত্তর করলেন, ‘হেমন্ত শূন্যতার ঋতু, হেমন্ত রিক্ততার ঋতু, হেমন্ত হাহাকারের ঋতু, রবীন্দ্রনাথ রিক্ততা-হাহাকার পছন্দ করতেন না, তাই লেখেননি!’ বিষয়টি আমায় ভাবনায় ফেলল। হেমন্ত ঋতুর কথা কে বেশি লিখেছেন কবিতায়? সহজেই উত্তর পেলাম, ‘জীবনানন্দ দাশ।’ তবে কি জীবনানন্দ সত্যিই শূন্যতার কবি? হাহাকারের কবি? প্রায় দুই যুগ আগে আমি ‘জীবনানন্দ দাশের জন্মশতবর্ষ’ উপলক্ষে প্রকাশিত ‘দ্বিতীয়চিন্তা’ নামে সাহিত্যপত্রের বিশেষ সংখ্যায় ‘জীবনানন্দ অনুসন্ধান’ নামে নাতিদীর্ঘ একটা গদ্য লিখেছিলাম; মনে আছে সেই গদ্যে আমি কবি জীবনানন্দ দাশকে জীবনমুখী কবি হিসেবে দেখতে চেয়েছি, আমি দেখতে চেয়েছি জীবনে জীবনানন্দের অভাবজনিত কারণে তিনি বেদনাক্লিষ্ট থাকলেও জীবনানন্দ সম্ভাবনার কবিতাও লিখেছেন, স্বপ্নের কবিতাও লিখেছেন; কিছু আশাজাগানীয়া কবিতাও লিখেছেন।

রণেশ দাশগুপ্ত সম্পাদিত ‘জীবনানন্দ দাশের কাব্য সম্ভার’-এর মুখবন্ধে সম্পাদক লিখেছেন, ‘বাংলার ষড়ঋতুর মধ্যে একটি মাত্র ঋতুর আবেদন তার মনে। সে হচ্ছে হেমন্ত। ঝরাপাতা আর ফসল কেটে নেওয়া রিক্ত মাঠের কবি তিনি। সুতরাং বিষণ্নতাই তার কবিতার মূল সুর। ক্লান্তি, অবসাদ, অবকাশ, অবসর, মৃত্যু আর বিচ্ছেদকে নিয়েই তার জীবনবোধ। এসব কারণেই আধুনিক বাংলা কবিতাতে তিনি অনন্য-সাধারণ। তিনি একটি বিচ্ছিন্ন কবি-সত্তা।’ একই মুখবন্ধের অন্যত্র তিনি লিখছেন, ‘তিনি যদি শুধু আত্ম-নিমগ্ন নিসর্গবাসী কবি হতেন, তা হলে তার কাব্যসম্ভার থেকে শেষ পর্যন্ত ‘আমি’ এমন অজস্রভাবে ‘আমরা’ হয়ে উচ্চারিত হতে পারত না। ‘তিমির হননের গান’ কবিতার মধ্যে এই ‘আমরা’ আশ্চর্য আশাবাদী দ্যোতনা নিয়ে জেগে উঠেছে তার বহুতর সংশয় এবং যন্ত্রণার মধ্যে। আমরার মধ্য দিয়ে জীবনানন্দ দাশ নবজীবন পিয়াসী জনতার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করে রেখেছেন, এ কথা নিশ্চিত করে বলা যায়।’

একই মুখবন্ধের দুই জায়গায় পরস্পরবিরোধী বক্তব্যই যেন জীবনানন্দ দাশকে সীমাবদ্ধ গণ্ডিতে আবদ্ধ রেখেছে যুগের পর যুগ। জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঝরাপালক’ প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে। তার অন্যান্য কাব্যগুলো হচ্ছে— ধূসর পাণ্ডুলিপি, বনলতা সেন, মহাপৃথিবী, সাতটি তারার তিমির, রূপসী বাংলা, বেলা অবেলা কালবেলা। এ ছাড়া বহু অগ্রন্থিত কবিতা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে; পরবর্তী সময়ে যার অধিকাংশই গ্রন্থাকারেও প্রকাশিত হয়েছে।

আমরা এ প্রবন্ধে জীবনানন্দ দাশের কাব্য মূল্যায়ন করব না, বরং হেমন্ত ঋতুর ঋদ্ধির খোঁজ নিতে চাই। এ কথা সত্যি জীবনানন্দ প্রবলভাবে হেমন্ত ঋতু দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। জীবনানন্দের প্রকৃতি যেন বারবার হেমন্তের হাত ধরে কবিতায় হেসেছে অথবা বেদনাক্লিষ্ট হয়ে তাকিয়েছে আমাদের চোখে। সুতরাং হেমন্তের ঋদ্ধি আলোচনা করতে জীবনানন্দের শরণাপন্ন হতেই হয়; কিন্তু সেখানে তো বিচ্ছেদ, শূন্যতা আর হাহাকার। আমি সেই বিচ্ছেদ-শূন্যতা আর হাহাকারের মধ্যেই আবিষ্কার করতে চেয়েছি হেমন্তের ঋদ্ধিকে।

বাংলার ষড়ঋতুর বৈচিত্র্য আজ কেবল কিতাবে আছে, প্রকৃতিতে তার অস্তিত্ব বিপন্নপ্রায়। প্রথমত প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণ প্রকৃতিকে নানাভাবে অসহিষ্ণু করে তুলেছে; যে কারণে বছরের যে সময়টাতে বৃষ্টি হওয়ার কথা সে সময় বৃষ্টি না হয়ে অন্য সময় বৃষ্টি হচ্ছে, যে সময় কুয়াশা ঝরার কথা সে সময় ঝরছে না, যখন শীত অনুভূত হওয়ার কথা তখন গরম অনুভূত হচ্ছে। তার ওপর আছে কৃষিতে বিপুল পরিবর্তন। ষড়ঋতুর বৈচিত্র্য খুঁজতে গেলে আমাদের সামনে কৃষির যে চিত্র ছিল, তাতে মাঠে দুবার ধান থাকার কথা; কিন্তু এখন সারা বছর মাঠে ধান থাকছে। কৃত্রিম উপায়ে জলসিঞ্চনের মাধ্যমে মাঠে মাঠে কৃষকরা নিত্য বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছেন। ফসলি মাঠের দিকে তাকিয়ে এখন আর বলা সম্ভব নয়, আমাদের জীবনে এখন বছরের কোন ঋতু পার হচ্ছে।

লোকবাংলার সাধারণের গণনা অনুযায়ী বছরের কার্তিক-অগ্রহায়ণ দুই মাস হেমন্ত ঋতু। ঋতুচক্রের আবর্তে শরতের পর হেমন্ত ঋতুর আগমন। এক অর্থে হেমন্ত কিছুটা নিঃশব্দে আসা ঋতু; গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহ আর কালবৈশাখী জানান দেয় তার আগমন; বর্ষায় মেঘের গুড়ু গুড়ু আর টানা বর্ষণ কিছুতেই ভুলতে দেয় না তার উপস্থিতি; শরতেও মাঝেমধ্যে থাকে বৃষ্টির উপস্থিতি, শরতের কাশফুল আর ঢাকের আওয়াজ জানিয়ে দেয় তার আগমনি বার্তা; শীতের শুষ্কতা-হাড়কাঁপানো ঠান্ডা জানিয়ে দেয় তার প্রবল প্রতাপের কথা; আর বসন্তে পাতা ঝরার গান, উড়ু উড়ু হাওয়া হৃদয়ে আনে চঞ্চলতা; কিন্তু হেমন্ত? হেমন্ত ঋতুর নেই পীড়নের প্রতাপ, বরং হেমন্ত ঋতুর কপালে আছে বেশ কিছু কলঙ্কতিলক। যেমন লোকজীবনের প্রবাদ অনুযায়ী ‘তর জীবনে তো চৈত-কাতি বইলা কিছু নাই!’ অর্থাৎ বছরের চৈত্র মাস এবং কার্তিক মাস বিপর্যয়ের সময়, আবার বলা হয় ‘মরা কার্তিক’। কার্তিক মাসজুড়ে কৃষকের ঘরে ঘরে অভাব-অনটন থাকে, এ সময় খোরাকির ধান ফুরিয়ে যায়, নতুন ধানের অপেক্ষায়

কৃষক বসে থাকে। এত কলঙ্কের পরও হেমন্ত আমাদের গোলা ভরে, হেমন্তে নবান্ন উৎসব; হেমন্তে সবজি-আনাজ ক্ষেতে যৌবনের উৎসব আসে; আসে নবান্ন, নবান্ন মানে আনন্দ, নবান্ন মানে স্বস্তি, নবান্ন মানে ঋদ্ধি। তা ছাড়া প্রকৃতির এসব বাস্তবতা আজ অনুপস্থিত আমাদের জীবনে। যে কৃষক আজ মেধা খাটিয়ে চাষাবাদ করতে জানে তার ঘরে আজ আর অনটন থাকে না। ধান তো আছেই, পাশাপাশি শাকসবজি-ফল চাষ করেও কৃষকের প্রচুর অর্থাগমের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের কৃষিও আজ ঋতুচক্রের সাধারণ বিশ্বাসকে মিথ্যা বলে প্রতীয়মান করে তুলছে।

জীবনানন্দ দাশকে ঝরাপাতা আর ফসল কেটে নেওয়া রিক্ত মাঠের কবি বলে যদি মেনেও নিই, তারপরও আমি বলব, ফসল কেটে নিলে মাঠ রিক্ত হয়ে যায় বটে কিন্তু চাষির গোলা তো ভরে ওঠে। মাঠের রিক্ততার পাশে জীবনের বৈভবকে কি অস্বীকার করলেন জীবনানন্দ? রবীন্দ্রনাথ যে মাত্র তিনটি গান লিখেছেন, সেখানে হেমন্ত প্রসঙ্গে কী বলেছেন তিনি? একবার শুনি—

হায় হেমন্তলক্ষ্মী, তোমার নয়ন কেন ঢাকা—

হিমের ঘন ঘোমটাখানি ধূমল রঙে আঁকা॥

সন্ধ্যাপ্রদীপ তোমার হাতে মলিন হেরি কুয়াশাতে,

কণ্ঠে তোমার বাণী যেন করুণ বাষ্পে মাখা॥

রবীন্দ্রনাথ কিন্তু হেমন্তকে হাহাকারের ঋতু বলেননি, বরং বলেছেন অভিমানীণি রূপে, যিনি ধরার আঁচল শস্যে ভরে দিয়ে নিজেকে আড়ালে রাখেন; রবীন্দ্রনাথ হেমন্তকে ‘লক্ষ্মী’ বলে সম্বোধন করেছেন, যে লক্ষ্মী সম্পদের দেবী। কিন্তু জীবনানন্দ দাশ বাংলার হৈমন্তী প্রকৃতিকে অন্তরে এতটাই ধারণ করেছেন, যেন তিনি নিজেই বিবর্ণ পাতা হয়ে উঠেছেন তার পাঠকের কাছে। বিশেষ করে তার জীবদ্দশায় প্রকাশিত কাব্য এবং প্রয়াণের প্রায় দেড় যুগ পর প্রকাশিত কাব্য ‘রূপসী বাংলা’য় প্রবলভাবে উচ্চারণ করেছেন হেমন্তের কথা। মনোযোগ দিয়ে লক্ষ করলে দেখা যায়, বর্ষার প্রকৃতিতেও তিনি হেমন্তের আবহ নিয়ে এসেছেন। নিচের কটি পঙ্ক্তি পড়ে দেখি—

আমি চ’লে যাব ব’লে

চালতাফুল কি আর ভিজিবে না শিশিরের জলে

নরম গন্ধের ঢেউয়ে?

লক্ষ্মীপেঁচা গান গাবে নাকি তার লক্ষ্মীটির তরে?

সোনার স্বপ্নের সাধ পৃথিবীতে কবে আর ঝরে! 

হেমন্তের ঝড়ে আমি ঝরিব যখন

পথের পাতার মতো তুমিও তখন

আমার বুকের পরে শুয়ে রবে? অনেক ঘুমের ঘোরে ভরিবে কি মন

সেদিন তোমার।

তোমার আকাশ-আলো-জীবনের ধার

র’য়ে যাবে সেদিন সকল?

এ কবিতায়ও তিনি হেমন্তের ঝড়ের অনুষঙ্গ এনেছেন। আমাদের লোকজীবনে ‘আইতান-কাইতান’ বলে একটি শব্দবন্ধের প্রচলন আছে। আশ্বিন-কার্তিক মাসে আমরা টানা বৃষ্টির কথা জানি, যে বৃষ্টি কয়েক দিন ধরে চলে এবং কার্তিকের বৃষ্টি প্রকৃতিতে শীতকে আবাহন করে। জীবনানন্দ বললেন ‘হেমন্তের ঝড়ে’! আমরা তার ‘পেঁচা’ শিরোনামের কবিতাটি পড়তে পারি, ‘পঁচিশ বছর পরে’ও পড়তে পারি। একই কাব্যের ‘কার্তিক মাঠের চাঁদ’-এ তো শিরোনামেই হেমন্তের উপস্থিতি। হেমন্তে আছে কৃষকের গান, ধান কাটার গান, ধান ভানার গান; আবার ঘামের ফসল বেহাত হওয়ার বেদনার কথাও; সহজেই আমরা স্মরণ করতে পারি ‘সোনার তরী’ কবিতার কথা। কবিতায় হেমন্তের বৈচিত্র্য খুঁজতে আমরা ‘পিপাসার গান’ বা ‘মৃত্যুর আগে’ শিরোনামের কবিতার উল্লেখও করতে পারি।

জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর সতের বছর পর প্রকাশিত ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যের অসংখ্য পঙ্ক্তিতে আমরা পাব ‘নরম ধানের গন্ধ’, ‘কলমীর ঘ্রাণ’, ‘যখন হেমন্ত আসে গৌড় বাংলায় কার্তিকের অপরাহ্নে হিজলের পাতা’, ‘লক্ষ্মীপেঁচা গেয়ে গেছে গান নিশুতি জ্যোৎস্না রাতে’, ‘সারারাত ঝরে শুনেছি শিশিরগুলো’ এমন সব হেমন্তসংশ্লিষ্ট কথা। এভাবেই হেমন্ত ঋতু আচ্ছন্ন করেছে জীবনানন্দ দাশকে, আবার জীবনানন্দই বাক্সময় করে তুলেছেন হেমন্তঋতুর সৌন্দর্য তার অসংখ্য কালজয়ী কবিতায়। তবে তার কবিতায় তিনি হেমন্তকে স্বপ্নের ঠিকানা হিসেবে দেখতে চেয়েছেন।

একজন জীবনানন্দ দাশ ছাড়াও বাংলা সাহিত্যের অনেক কবি তাদের কবিতায় হেমন্তের সৌন্দর্য উন্মোচন করেছেন, কিন্তু বর্তমান রচনায় আমি ‘বাংলা কবিতায় হেমন্ত’ বিষয়ক ব্যবচ্ছেদে বসিনি, বরং আমি ঋতুচক্রে হেমন্ত ঋতুর ঋদ্ধিকে আবিষ্কার করতে চেয়েছি; সংগত কারণেই আলোচনাকে আমি পথভ্রষ্ট হতে দিতে চাই না।

দ্রোহ ও প্রেমের কবি রফিক আজাদ-এর কবিতায় দেখি হেমন্তের আবহ—

একটি ঘাসফড়িংয়ের জন্য আজ বুকের বাঁ পাশে

ব্যথা হয়: সুদূর শৈশবে একদিন পায়ে পিষে

মেরে ফেলে আজ খুব অনুতপ্ত, শ্বাসকষ্ট হয়;—

এভাবেই আমরা বাংলা ভাষার আরও অনেক কবির কবিতায়ই হেমন্ত ঋতুর আবহ পেয়ে যাব; কিন্তু আলোচনা সংক্ষিপ্ত করার প্রয়োজনে সেদিকে না গিয়ে বর্তমান আলোচনা ইতি টানার আগে দৃঢ়তার সঙ্গে উচ্চারণ করতে চাই, প্রকৃতির রূপ বর্ণনায় বারবার হেমন্তের আশ্রয় নিলে তা কেবলই শূন্যতা বা রিক্ততার কথা বলা হয় না; একই কারণে হেমন্ত রিক্ততার ঋতু, হেমন্ত শূন্যতার ঋতুও নয়; জীবনানন্দ এবং বাংলার কবিরা বরং আবিষ্কার করেছেন হেমন্তের সৌন্দর্য, যে কারণে তারা বারবার ফিরে তাকিয়েছেন হেমন্ত ঋতুর দিকে। আমি বরং হেমন্তের ঋদ্ধি খুঁজতে নিচের কয়েকটি পঙ্ক্তি পড়ে আলোচনার সমাপ্তির দিকে যেতে চাই।

হেমন্ত সুবোধ ঋতু, গ্রীষ্ম-বর্ষা-শীত নয় নাতিশীতোষ্ণ মৌসুম

ঘামের বিরক্তি শীতের প্রকোপ নয় হেমন্তে মিলন-ঘুম

রগড়-শৃঙ্গার সারারাত রাগ প্রশমন ভোরে

পরিযায়ী পাখিরা হেমন্তে অপেক্ষায় থাকে স্বপ্ন করিডোরে; হেমন্তের ঋদ্ধি গানে-আবাহনে প্রগতির নবজাগরণে

শিল্প-পথের দিশারি হতে হেমন্ত ঋতুর আসা বাঁক উন্মোচনে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা
  বিষয়:   সাহিত্য  মানুষ  উত্তর  শূন্যতা  ঋতু  রিক্ততা  সময়ের আলো  কবিতা 


Advertisement
Loading...
Loading...
সাহিত্য- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: