গ্রাফিক : সময়ের আলো দূরত্ব
মেহেদী ইকবাল
ছায়া দেখিনি আজও
ছবিতে দেখেছি ঢের
সেই সব ছবি যা সুনির্বাচিত এবং যত্ন করে তোলা
চিরকাল আড়ালে থাকে ক্যামেরাম্যান
আর স্ক্রিপ্ট রাইটার
কজনইবা খুঁজতে যায় গীতিকারের নাম!
এই যে উইশ পাচ্ছি সকাল-সন্ধ্যা
রাত বারোটার আগেই তাগাদা ঘুমের
আসলে তাগাদা
নাকি আমন্ত্রণ চ্যাটিং এর?
হোয়াটসআপ-মেসেঞ্জারে কত বার্তা
মাঝেমধ্যে ভিডিও কল
সবচেয়ে জটিল আজও
আর দুর্বোধ্য মানুষের মন!
হাসি পায় কথা ভেবে পাসপোর্ট-ভিসার
আর কাঁটাতার প্রতিবেশী রাষ্ট্রের!
ভোর ছাড়াই শুরু হয় একটি দিনের
স্বাস্থ্যের জন্য হানিকর
তবু স্বাগত খুব কড়া লিকার!
কী লাভ দূরত্ব মেপে চুমুর?
আগ্রহী চুমুক কাপে কফির কিংবা বিয়ার
কী লাভ খুঁচিয়ে যত চিহ্ন ক্ষত না পাওয়ার?
এর চেয়ে শুনি না বসে সিম্ফনি ব্যান্ডের গান
সব ভুলে হই না উল্লসিত
নিয়ে প্রাণশক্তি অফুরান!
ঘটমান বর্তমান
অনিন্দ্য জসীম
কথা বলতে গেলে
আমতা আমতা লাগে,
কণ্ঠ জড়িয়ে আসে, সময়ের সঙ্গে
তাল মিলিয়ে বলতে পারার বিচক্ষণতা
অনেকের থাকে না বলে
জিহ্বার এই জড়তা,
যদিও জিহ্বা তার কৌশল খাটিয়ে
সম্মান বাঁচায়, চুপ থাকে,
তবু বুদ্বুদ ওঠে মনে।
আমাদের গল্প
সালাহ উদ্দিন মাহমুদ
মাঝরাতে ডেকে যায় একটা হুতুম প্যাঁচা;
তুমি আঁতকে ওঠো যেন অকল্যাণের ভয়ে।
আমাদের গল্পের ভিড়ে উড়ে যায় রাতজাগা পাখি,
আমাদের চোখে ঘুম নেই— জমে থাকে কথারা।
দিনকানা প্যাঁচাগুলো অন্ধকারে খুঁজে পায় দিশা;
তারা সবচেয়ে বেশি চোখে দেখে রাতের গভীরে।
আমাদের গল্প থেমে যায়— তোমার থমথমে শরীর
হঠাৎ আঁকড়ে ধরে আমাকে,
আমাদের নতুন গল্প শুরু হয় আগামীর অপেক্ষায়—
আলো ফুটবে বলে।
হাওয়া ও তুলাবিষয়ক গল্প
হাসনাত মোবারক
কুপি হক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন ‘বই পড়ুন’।
তার এই পোস্টের নিচে এক নারী মন্তব্য করেছেন ‘পড়লে লাভ কী?’
কুপি হক এই প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি।
তবে সেই নারীকে মেনশন করে অধ্যাপক সুখী উত্তর দিলেন,
‘আপনি সত্যিকারের বইপড়ুয়া হয়ে উঠলে এমন বোকা প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকবেন।’
অধ্যাপক সুখীর মন্তব্যকে মেনশন করে এনকাউন্টার দিদার লিখলেন,
‘আপনি ব্যক্তি স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করতে পারেন না।’
এর পর একের পর এক কমেন্টস এসে ওই পোস্ট ভরে উঠল। বেশিরভাগ মন্তব্য অধ্যাপক সুখীকে গালাগাল করতে লাগলেন।
কিছুক্ষণ পর সুখী সাহেবের ফেসবুক আইডির প্রোফাইল দেখার কৌতূহল হলো। তার প্রোফাইলে ক্লিক করলে লেখা এলো
‘দিস অ্যাকাউন্ট ইজ নট অ্যাভেইলেবল অ্যাট দিজ মোমেন্ট।’
শান্তি
মৌ মধুবন্তী
শান্তি কখনো পতাকার রঙে জন্মায় না,
জন্মায় মানুষের বুকের ভেতর এক নিঃশব্দ আলোতে।
যুদ্ধের ধুলো বসে গেলে যে নরম বাতাস ওঠে,
সেই বাতাসই প্রথম শেখায়—
বেঁচে থাকা মানে কোমল হওয়া।
আমরা যতবার রাগের আগুনে নিজেদের পোড়াই,
শান্তি ততবার জল হয়ে ফিরে আসে।
একটি শিশুর হাসি, একটি বৃদ্ধের দীর্ঘশ্বাস,
একটি অচেনা হাতের স্পর্শ— সবই শান্তির ভাষা।
মানুষ ভুলে যায়, শান্তি কখনো জয় নয়,
শান্তি হলো ক্ষতকে মেনে নেওয়ার সাহস।
যে পৃথিবী ভাঙে, সে আবার গড়তেও চায়।
শান্তি সেই গড়ার প্রথম ইট।
যেখানে দয়া থাকে, সেখানে সীমানা থাকে না।
শান্তি হলো মানবতার সবচেয়ে পুরোনো স্মৃতি।
আর সেই স্মৃতি আমাদের এখনও ডাকছে।
ইচ্ছে
ফেরদাউসী কুঈন
উত্তুঙ্গ পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখলেই
প্রাচীন মনও জেগে ওঠে, নেচে ওঠে
দুঠোঁটে কৃষ্ণচূড়া দেখলেই
পুড়ে যায় মন, সাধ হয় ছুঁয়ে দেখার
সিঁথির মতো অরণ্য পথ দেখলেই
ঝরনার মতো গড়িয়ে নামার ইচ্ছে হয়
ঝাঁপ দিই...।