যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও সহজ, স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য পরিবেশ তৈরিতে সরকার কাজ করছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জেপি মর্গ্যান আয়োজিত প্রাতঃরাশ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগের জন্য আস্থা, পূর্বানুমেয়তা ও প্রবৃদ্ধির উপযোগী পরিবেশ প্রয়োজন। তার সরকার সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশে ১৮ কোটির বেশি মানুষের বসবাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী, ক্রমবর্ধমান বাজার এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান দেশটির বড় শক্তি।
তৈরি পোশাক খাত বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হলেও এর বাইরে জ্বালানি, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, উৎপাদন, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবায় বড় বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদন, বিনিয়োগ ও সেবা খাতের একটি কেন্দ্রে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য।
বিনিয়োগকারীদের জন্য নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজ করা, বিনিয়োগ সুরক্ষা জোরদার, বিধিবিধান সরলীকরণ, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নয়ন, মুনাফা সহজে দেশে ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার আগ্রহ প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আরও ঘনিষ্ঠ সংযোগ স্থাপনে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম বন্ড ইস্যুতে জেপি মর্গ্যানের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের জন্য নতুন একটি রেফারেন্স পয়েন্ট তৈরি হয়েছে এবং দেশের পুঁজিবাজারকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য স্বাগত জানাই।’ একই সঙ্গে বাংলাদেশকে এমন একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত করার প্রত্যয় জানান, যেখান থেকে বিনিয়োগকারীরা বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকারের লক্ষ্য অত্যন্ত সরল—আরও বিনিয়োগ, আরও বাণিজ্য, আরও কর্মসংস্থান, আরও প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব।’
তিনি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে কাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার তাদের কথা শুনতে এবং সম্ভাব্য বাধা দূর করতে প্রস্তুত।
সময়ের আলো/কেএইচও