শৈশব-কৈশোরেই অভিনয়ে পা রাখেন বলিউড অভিনেত্রী সুচিত্রা কৃষ্ণমূর্তি। শাহরুখ খানের বিপরীতে ‘কভি হ্যাঁ কভি না’ সিনেমায় অভিনয় করে পরিচিতি পান তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি গানেও পারদর্শী সুচিত্রা নব্বইয়ের দশকে কয়েকটি মিউজিক ভিডিওতেও কাজ করেছেন।
তবে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেই তার ব্যক্তিজীবনে আসে বড় পরিবর্তন। নিজের চেয়ে প্রায় ৩০ বছরের বড় নির্মাতা শেখর কাপুরের প্রেমে পড়েন সুচিত্রা। শেখর এর আগে বিবাহিত ছিলেন এবং বিচ্ছেদও হয়েছিল। পরিবারের আপত্তি উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত তাকেই বিয়ে করেন তিনি।
সম্প্রতি একাধিক সাক্ষাৎকারে সেই সম্পর্ক, বিয়ে ও দাম্পত্যজীবনের নানা অজানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন সুচিত্রা।
শেখর কাপুরকে প্রথম দেখার সময় একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন সুচিত্রা। একটি কলেজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে এসেছিলেন শেখর। সেখানেই প্রথম দেখায় তার প্রতি আকৃষ্ট হন তিনি। সুচিত্রার ভাষায়, তখন তিনি পুরোপুরি ‘ফ্যানগার্ল’ ছিলেন।
পরে আলোকচিত্রী গৌতম রাজাধ্যক্ষের মাধ্যমে ১৮ বছর বয়সে আবার শেখরের সঙ্গে দেখা হয় সুচিত্রার। একটি সিনেমায় কাজের জন্য ওই সাক্ষাৎ হলেও শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি নির্মিত হয়নি। তবে সেই সূত্রেই দুজনের যোগাযোগ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে তা প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়।
সুচিত্রা ও শেখরের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি তার পরিবার। দুজনের প্রায় ৩০ বছরের বয়সের ব্যবধান এবং শেখরের আগের বিয়ের বিষয়টি নিয়ে পরিবারের উদ্বেগ ছিল। এমনকি মেয়েকে বিয়ের সিদ্ধান্ত থেকে ফেরাতে সুচিত্রার মা তার পা ধরে অনুরোধ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
তবে পরিবারের আপত্তি উপেক্ষা করেই নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন সুচিত্রা। ১৯৯৯ সালে ২২ বছর বয়সে ৫২ বছর বয়সী শেখর কাপুরকে বিয়ে করেন তিনি।
বিয়ের পর খুব বেশি দিন ভালো কাটেনি তাদের। ২০২৩ সালে সিদ্ধার্থ কান্নানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুচিত্রা জানিয়েছিলেন, দাম্পত্যের প্রথম বছরেই সম্পর্কে সমস্যা দেখা দেয়। একপর্যায়ে সংসার ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন তিনি।
সে সময় বার্কলি কলেজ অব মিউজিকে সংগীত শেখার জন্য একটি বৃত্তিও পেয়েছিলেন সুচিত্রা। এর মধ্যেই অন্তঃসত্ত্বা হন তিনি। ফলে বিয়ে থেকে বেরিয়ে নিজের মতো করে জীবন শুরুর পরিকল্পনা স্থগিত করেন। আরও কয়েক বছর সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত বুঝতে পারেন, সম্পর্কটি আর টেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
২০০১ সালে সুচিত্রা ও শেখরের মেয়ে কাবেরী কাপুরের জন্ম হয়। সন্তানকে ঘিরে সংসার ধরে রাখার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তা টেকেনি। ২০০৭ সালে বিচ্ছেদ হয় দুজনের। তখন কাবেরীর বয়স ছিল ছয় বছর।
দাম্পত্য ভেঙে গেলেও মেয়ের জন্য দুজনের যোগাযোগ বজায় থাকে। সুচিত্রা জানিয়েছেন, কাবেরীর দৈনন্দিন জীবনের বেশির ভাগ দায়িত্ব তার ওপর থাকলেও বাবার সঙ্গে মেয়ের সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ। মজা করে শেখরকে ‘ভ্যাকেশন ড্যাড’ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
সুচিত্রার মতে, সন্তানের জীবনে মা ও বাবা—দুজনের উপস্থিতিই গুরুত্বপূর্ণ।
বিচ্ছেদের সময় পরিবারের কাছ থেকেও সমর্থন পেয়েছিলেন সুচিত্রা। যে মা একসময় শেখরকে বিয়ে না করার জন্য মেয়ের পা ধরে অনুরোধ করেছিলেন, তিনিই পরে মেয়েকে বলেছিলেন, কোনো অসম্মানজনক পরিস্থিতি মেনে নিয়ে থাকার প্রয়োজন নেই।
বিচ্ছেদের পর আর বিয়ে করেননি সুচিত্রা। শেখরও নতুন করে বিয়ে করেননি বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে তাদের মেয়ে কাবেরীও অভিনয়ে পা রেখেছেন। ২০২৫ সালে ‘ববি অউর ঋষিস লাভ স্টোরি’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক হয় তার।
সময়ের আলো/এসএকে