চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মাদক সেবনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজাপ্রাপ্ত এক যুবকের পরবর্তী ডোপ টেস্টে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সাজা ভোগ করে বের হওয়ার পর নিজ উদ্যোগে করানো ওই মেডিকেল রিপোর্টের পর থেকেই পুরো বিচার প্রক্রিয়া ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ভুক্তভোগী যুবকের দাবি, সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে ফাঁসানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী আলাউদ্দিনের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে সাতকানিয়ার কালিয়াইশ ইউনিয়নের মৌলবির দোকান এলাকা থেকে সাতকানিয়া থানার এএসআই মতিন, এএসআই নুরুদ্দীন ও কনস্টেবল মোজাম্মেল তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। পরদিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে মাদক সেবন ও মাতলামির অভিযোগে তাকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
আলাউদ্দিনের দাবি, আটকের সময় ঘটনাস্থলে কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি সাজা দেওয়ার সময় বা তার আগে কোনো ডোপ টেস্ট করানো হয়নি এবং সাজার নথিতেও এর কোনো বৈধ প্রতিবেদন ছিল না। পরে সাজা ভোগ করে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর গত ২৯ সেপ্টেম্বর তিনি নিজ উদ্যোগে ডোপ টেস্ট করালে পরীক্ষার ফল ‘নেগেটিভ’ আসে।
অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য এএসআই মতিন আটকের কথা স্বীকার করলেও অসংলগ্ন তথ্য দিয়েছেন। যেখানে তিনি দাবি করেছেন আলাউদ্দিনের কাছ থেকে ইয়াবা পাওয়া গিয়েছিল, অথচ ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়া হয়েছে গাঁজা খেয়ে মাতলামি ও অসদাচরণের অভিযোগে। এদিকে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার, ডিআইজি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ পুরকায়স্থকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
আইনজীবীদের মতে, মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের ক্ষমতা ও ডোপ টেস্টের বিধানগুলো যথাযথভাবে না মানলে বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। কেবল পুলিশ সদস্যদের মৌখিক বক্তব্যের ভিত্তিতে এ ধরনের সাজা প্রদান কতটা আইনসম্মত, তা নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সময়ের আলো/জোই