নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা আজ, মূল্যস্ফীতি-ঋণপ্রবাহে নজর

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

চলতি বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের জন্য আজ নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নীতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও

2026-09-30T09:43:43+00:00
2026-09-30T09:45:11+00:00
 
  বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অর্থনীতি
নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা আজ, মূল্যস্ফীতি-ঋণপ্রবাহে নজর
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৩ এএম  আপডেট: ৩০.০৯.২০২৬ ৯:৪৫ এএম
বাংলাদেশ ব্যাংক। ছবি : সংগৃহীত
চলতি বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের জন্য আজ নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নীতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর কৌশলে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে সংবাদ সম্মেলনে এ নীতি ঘোষণা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান। এ সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান কর্মকর্তা, গবেষণা বিভাগের নির্বাহী পরিচালক, মুখপাত্র ও সহকারী মুখপাত্রসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

নতুন মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা কাটানো এবং ব্যাংকঋণের প্রবাহ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। কারণ, দেশে মূল্যস্ফীতি এখনো ৮ শতাংশের ওপরে। অন্যদিকে, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে। এমন পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি কমানোর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরানো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই শেষে বেসরকারি খাতে ব্যাংকঋণের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ। এর আগে জুনে এ হার ছিল ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ, যা ছিল রেকর্ড সর্বনিম্ন। চলতি বছরের ডিসেম্বর শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৮০ শতাংশ।


ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ার পেছনে বিনিয়োগে স্থবিরতা, ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট ও উচ্চ সুদহারকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যাংকগুলোতে পর্যাপ্ত তারল্য থাকলেও নতুন বিনিয়োগে উদ্যোক্তাদের অনাগ্রহের কারণে সেই অর্থ কাঙ্ক্ষিত হারে উৎপাদনশীল খাতে যাচ্ছে না।

বিশেষ করে শিল্প, নির্মাণ ও পরিবহন খাতে নতুন ঋণের চাহিদা কম। ফলে ব্যাংকিং খাতে অর্থের জোগান থাকলেও বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণে প্রত্যাশিত গতি আসছে না।

এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ বাড়াতে গত ২ আগস্ট নীতি সুদহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণের খরচ কমিয়ে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোই ছিল এ সিদ্ধান্তের অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে, সুদহার কমানোর পরও বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ অতিক্রম করেনি।

এ কারণে নতুন মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হবে, নাকি আরও সমন্বয় করা হবে, তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে ব্যবসায়ী ও ব্যাংকারদের। পাশাপাশি তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেও নজর থাকবে।


অন্যদিকে, মূল্যস্ফীতির চিত্রে কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে, আগস্টে দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। জুলাইয়ে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। আগস্টের এই হার গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

তবে, মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ওপরে থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এখনো চাপের মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থায় নতুন মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রাখা হয়, সেটিই হবে নীতিনির্ধারণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

এদিকে, বছরে দুবারের পরিবর্তে তিন মাস পরপর মুদ্রানীতি ঘোষণার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি সংসদীয় কমিটিতে বছরে চারবার মুদ্রানীতি ঘোষণার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অর্থনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত নীতিগত সমন্বয় করাই এ প্রস্তাবের উদ্দেশ্য।

নিয়মিত বিরতিতে মুদ্রানীতি পর্যালোচনা করা হলে মূল্যস্ফীতি, ঋণপ্রবাহ, বিনিয়োগ ও তারল্যের পরিবর্তন বিবেচনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে সময়মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ এবং নীতি বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর।

মুদ্রানীতির মাধ্যমে অর্থনীতিতে অর্থের সরবরাহ, ঋণের খরচ ও সুদের হারে প্রভাব বিস্তার করে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়লে চাহিদা নিয়ন্ত্রণে নীতি কঠোর করা হয়। আবার বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি কমে গেলে ঋণ ও অর্থের প্রবাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়।

রেপো ও রিভার্স রেপোসহ বিভিন্ন বাজারভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের তারল্য ও সুদের হার নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাই নতুন মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কৌশলের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে ঋণ ও বিনিয়োগ বাড়াতে কী ধরনের নীতিগত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়, তা জানতে অপেক্ষা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সময়ের আলো/মহু
  বিষয়:   মুদ্রানীতি  মূল্যস্ফীতি  ঋণপ্রবাহ  বাংলাদেশ ব্যাংক  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: