সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করা ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে থাকা ইসরায়েলি যাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে নিতে সামরিক বিমান পাঠানোর ইসরায়েলি অনুরোধ নাকচ করেছে সৌদি আরব।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুই সৌদি নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সূত্রগুলোর মতে, সৌদি ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে ইসরায়েলি সামরিক বিমান পাঠানোর অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। তবে দুই দেশের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি। সৌদি সরকারের গণমাধ্যম দফতর এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
এক সৌদি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, যাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে নিতে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর ‘সুপার হারকিউলিস’ সামরিক বিমান পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।
অন্যদিকে, ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করা বিমানটির যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরে যাত্রীরা বিকল্প ফ্লাইটে ইসরায়েলে পৌঁছান।
এর আগে বুধবার দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, আকাশে থাকা অবস্থায় বিমানের সহকারী পাইলট মূল পাইলটকে ছুরিকাঘাত করেন এবং বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় যাত্রী ও ক্রুরা হস্তক্ষেপ করে ওই পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে আহত পাইলটদের সহায়তায় বিমানটি নিরাপদে সৌদি আরবে অবতরণ করে।
তাবুক বিমানবন্দর জানিয়েছে, ঘটনায় দুই পাইলট আহত হন এবং চিকিৎসার জন্য তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে ফ্লাইদুবাই বলেছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও উদ্দেশ্য এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের বিষয়।
সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে বর্তমানে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। এ অবস্থায় সৌদি ভূখণ্ডে জরুরি অবতরণ করা বিমানটির ইসরায়েলি যাত্রীদের দেশে ফেরানো নিয়ে কূটনৈতিক বিষয়টি সামনে আসে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবকে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ যোগ দেওয়ার জন্য উৎসাহ দিয়ে আসছেন। চুক্তিটির আওতায় ইতোমধ্যে কয়েকটি আরব দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে।
তবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে বাস্তব অগ্রগতি না হলে এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই অনাগ্রহ প্রকাশ করে আসছে।
সময়ের আলো/এসএকে