দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখেছেন সিট আলোকডিহি গ্রামের কৃষক ময়েজ উদ্দিন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় খরিপ-২/২০২৬-২৭ মৌসুমে হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষ করে তিনি লাভের সম্ভাবনা তৈরি করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ময়েজ উদ্দিনের ২০ শতক জমির শিমখেত ফুল ও ফলে ভরে উঠেছে। মাচাজুড়ে ঝুলছে কচি শিম। পরিচর্যা, সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ময়েজ উদ্দিন।
ময়েজ উদ্দিনের শিম চাষ দেখে একই এলাকার অন্য কৃষকরাও গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তার সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে কৃষক কায়েসসহ ওই এলাকার আরও কয়েকজন কৃষক চলতি মৌসুমে শিম চাষ করেছেন। এতে এলাকায় গ্রীষ্মকালীন শিম চাষের পরিধি বাড়ার পাশাপাশি কৃষকদের মধ্যে বিকল্প ও লাভজনক সবজি চাষে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
কৃষক ময়েজ উদ্দিন জানান, প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি বিকল্প ও লাভজনক ফসল চাষের চিন্তা থেকেই তিনি গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে আগ্রহী হন। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও প্রকল্পের সহযোগিতায় ২০ শতক জমিতে হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষ শুরু করেন। গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে শিমের ভালো ফলন ও তুলনামূলক ভালো বাজারদর পাওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট। ভবিষ্যতে আরও জমিতে এ জাতের শিম চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
তিনি আরও জানান, ২০ শতক জমিতে শিম চাষে এ পর্যন্ত তার প্রায় ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বর্তমান ফলনের ধারাবাহিকতায় প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করার আশা করছেন তিনি। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি শিম ১১০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সে হিসাবে মোট বিক্রয়মূল্য থেকে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে তার প্রায় ৩৫ থেকে ৪২ হাজার টাকা লাভ হতে পারে।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল বিন আমিন বলেন, ‘ময়েজ উদ্দিনকে শিমখেতে নিয়মিত পরিচর্যা ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতটি গ্রীষ্মকালীন সময়ে চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় কৃষকের ভালো ফলন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করে কম খরচে বেশি উৎপাদন ও লাভ করতে পারেন।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার বলেন, ‘জলবায়ু ও মৌসুমভেদে ফসলের বৈচিত্র্য আনা এবং একই জমিতে অধিকতর লাভজনক ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকের আয় বাড়ানোর লক্ষ্যেই বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের নতুন প্রযুক্তি ও উন্নত জাত সম্পর্কে উৎসাহিত করা হচ্ছে। গ্রীষ্মকালীন শিম চাষের মতো উদ্যোগ কৃষিতে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়াতেও ভূমিকা রাখছে।’
সময়ের আলো/মহু