বদলগাছীতে মুরগির খামারের বর্জ্যে ক্ষতির মুখে কৃষক

বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি

সারাদেশ

নওগাঁর বদলগাছীতে উজালপুর গ্রামে একটি বাণিজ্যিক মুরগির খামারের ময়লা-আবর্জনায় ক্ষতির মুখে পড়েছে ফসলি জমি ও কৃষক। আশপাশের কয়েক কিলোমিটার দূর

2026-10-01T17:56:09+00:00
2026-10-01T17:59:47+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬,
১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
বদলগাছীতে মুরগির খামারের বর্জ্যে ক্ষতির মুখে কৃষক
বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৬ পিএম  আপডেট: ০১.১০.২০২৬ ৫:৫৯ পিএম
সম্রাট ফিড এ্যান্ড চিকস খামার। ছবি : সময়ের আলো
নওগাঁর বদলগাছীতে উজালপুর গ্রামে একটি বাণিজ্যিক মুরগির খামারের ময়লা-আবর্জনায় ক্ষতির মুখে পড়েছে ফসলি জমি ও কৃষক। আশপাশের কয়েক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। খামারের মালিকের বিরুদ্ধে কৌশলে কম দামে জমি কিনে নেওয়ার অপচেষ্টার অভিযোগও করেছেন কৃষকরা।

উপজেলার মিঠাপুর ইউনিয়নের উজালপুর গ্রামে ২০১৭ সালে স্বল্প পরিসরে ‘সম্রাট ফিড এ্যান্ড চিকস’ মুরগির খামার গড়ে তোলেন সিরাজুল করিম মিন্টু (মিন্টু সোনার)। খামার শুরুর এক বছরে তেমন কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। তবে, খামারের পরিধি বাড়তে থাকলে সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে। বর্তমানে চল্লিশ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলা বাণিজ্যিক খামারে ৪৫ হাজার লেয়ার মুরগি আছে।

খামারের ময়লা-আবর্জনা ও পচা-দুর্গন্ধযুক্ত পানি মাঠে ছড়িয়ে পড়ায় আশপাশের প্রায় ৩০০ বিঘা ফসলি জমি চাষাবাদে বিড়ম্বনায় পড়েছে কৃষকরা। এতে উৎপাদন যেমন ব্যাহত হচ্ছে, অপরদিকে বাড়ছে শ্রমিক খরচও। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোটা অঙ্কের অর্থের সুবিধা নিয়ে প্রতি বছর খামারটির লাইসেন্স নবায়ন করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। খামার কর্তৃপক্ষের এমন খামখেয়ালিপনায় এলাকাবাসীর ক্ষোভ এখন চরমে পৌঁছেছে।


কৃষকরা জানান, মুরগির খামারের ময়লা-আবর্জনা ও পচা-দুর্গন্ধযুক্ত পানি ছড়িয়ে পড়ছে মাঠের ফসলি জমিতে। ফলে, এ মাঠের প্রায় ৩০০ বিঘা ফসলি জমি ক্ষতির মুখে পড়েছে। জমি চাষাবাদ নিয়ে খামারের পাশে অন্তত ১২-১৫ কৃষক বিড়ম্বনায় পড়েছেন। 

মিঠাপুর গ্রামের বাসিন্দা কৃষক আব্দুল আলিম, আফসার আলী ও শফিকুল ইসলাম জানান, কম দামে জমি কিনতে পাঁয়তারাও করছে খামার মালিক। একাধিকবার আলোচনাও হয়েছে। কোনো সমাধান হয়নি।

কৃষক দুলাল হোসেন, হাসু হোসেন ও আবুল হোসেন বলেন, মাঠের ধান কাটার সময় খামারে পুকুরের ময়লা পানি ছেড়ে দেওয়ায় জমিতে ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিক ধান কাটতে চায় না। মজুরি বেশি নেয়। বিঘাতে দেড় থেকে দুহাজার টাকা বাড়তি দিয়ে ধান কাটতে হয়। এছাড়া, খামারের পাশে সরকারি টাকায় নির্মিত ব্রিজ আছে। মালিক ব্রিজের মুখ বন্ধ করে দেওয়ায় তা কোনো কাজে আসছে না। এতে মাঠের পানি বের হয় না। জলাবদ্ধতায় ফসল নষ্ট হয়।


সম্রাট ফিড এ্যান্ড চিকসের স্বত্বাধিকারী সিরাজুল করিম মিন্টু বলেন, ‘কম দামে জমি কিনে নেওয়ার বিষয়ে কৃষকরা যে অভিযোগ করেছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল সুবিধা না পেয়ে গুজব রটানোর চেষ্টা করছে। নিজেদের জমিতে খামারের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয় এবং বায়োসিকিউরিটির ব্যবস্থাও রয়েছে। ফসল ক্ষতি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।’

বদলগাছী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ রিপা রাণী বলেন, `খামারটি নিয়মিত পরিদর্শন করা হয় এবং সবসময় বলে থাকি বায়োসিকিউরিটি মানতে হবে। ঢাকনাযুক্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়গুলো থাকতে হবে। আমরা প্রতিবারই খামারটি পরিদর্শনের সময় পরামর্শ দিয়ে থাকি।’ এলাকার চারপাশে পরিবেশদূষণের পরও কেন প্রতিবছর খামারটিকে লাইসেন্স নবায়ন দেওয়া হয় -এ প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি তিনি।

নওগাঁ পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মোঃ নাজমুল হোসাইন বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে না করলে পরিবেশদূষণের বিষয়টি সামনে চলে আসে। খামারের কর্মীরা বুঝতে না পারায় এমনটা হতে পারে। ইতোমধ্যে খামারটি পরিদর্শন করা হয়েছে। খামারের বর্জ্য নির্দিষ্ট জায়গায় রাখতে বলা হয়েছে। এলাকাটি নিচু হওয়ার কারণে পানির সঙ্গে বর্জ্য ভেসে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। খামারিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামীতে যদি এমন চলতে থাকে খামারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সময়ের আলো/মহু
  বিষয়:   বদলগাছী  মুরগি  খামার  কৃষক  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: