স্বপ্ন এবং বাস্তবতার মিশেলেই কবিতার জন্ম (আল মাহমুদ)। আসলে কবিতা একটি অভিজ্ঞতা, বিশেষ সচলতায়, বিশেষ মাধুর্যে তা কবিতার রূপ নেয়। স্বাপ্নিক কবির মধ্যে একজন প্রেমিকের অন্তরঙ্গ ইচ্ছের লাবণ্য ও পেষণ আছে। আর সেখানেই তার কবিতায় অভিজ্ঞতার পুনর্নির্মাণ ঘটে।
প্রাচীন সংস্কৃত কবিদের অনুরাগের রং একাকার হয়েছে প্রেমের কবিতায়। কবিতার রং হচ্ছে অস্তিত্বের রহস্যময়তা এবং আনন্দ। কবিরা আজীবন অসীমের প্রতি, অধরা এবং অনন্তের প্রতি একটা দূরায়ণ টান ও আকর্ষণ অনুভব করেন। কোন এক সুদূর লোক থেকে কী যেন তীব্র ব্যাকুলতা না পাওয়ার বেদনা কবিকে কুরে কুরে খায়— ‘যদি জানতেম সে কিসের ব্যথা’- (রবীন্দ্রনাথ।)
মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে তার দৃষ্টির বৈভব। কবিতার স্বভাব ও তাৎপর্য উদঘাটন করতে গেলে কবির জীবন ও বিশ্বাসকে জানা প্রয়োজন, সামাজিক, ঐতিহাসিক পরিপ্রেক্ষিত জানা প্রয়োজন। সৃষ্টির সময় কাল, দার্শনিক ও নন্দন তাত্ত্বিক উপলব্ধি প্রয়োজন। কবির নানা অবলোকনকেও চিত্তে ধারণ করতে হয়। কবি হচ্ছেন সময়, স্থান এবং অনন্তবোধের পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের হৃদয়ে ধারণ করার একজন শিল্পী।
তিনি যখন নিজের ভেতরে আবেগের প্রচণ্ড পীড়ন অনুভব করেন তখনই একজন কবির হাতে একেকটি শব্দ হয়ে ওঠে সূর্যের মতো তেজোদীপ্ত। ভাবকে নান্দনিক ঐশ্বর্যে কবিতায় রূপদান করতে হলে সুন্দর শব্দ ও বাণী বিন্যসাহায্য চাই।
সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তির দূরায়ণ অভিক্ষেপ, প্রজ্ঞার গভীরতা উপরোল্লিখিত কবিতার লাইনগুলোকে অনন্যতা দান করেছে। গভীর বেদনা, আবেগ, বক্তব্যের পরিমার্জিত রূপ আমাদের উৎসুক বাড়িয়েছে। প্রচলিত শব্দচয়ন, প্রবাদের সংমিশ্রণে আধুনিক রূপ লাভ করেছে।
কবির আক্ষেপ, ছায়ালোকের অন্তরাল, তারপর কবির জেগে ওঠা এবং বিনত হওয়া। কবি যেন বলতে চাইছেন আমিও আছি, থাকব।
মানুষের অভিজ্ঞতার পুনর্নির্মাণ কবিতায় ঘটে। কবি যে পরিবেশে বসবাস করেন সে পরিবেশের প্রভাব তার কবিতায় পড়ে। তিনি অনেক কিছু দেখেন এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য তার মনকে কখনো কখনো ভীষণভাবে আপ্লুত করে।
একজন কবি পৃথিবীর কাজ ও প্রয়োজনের কলরবে কখনো বিভ্রান্ত হন না। তিনি অবলোকন করেন, প্রকৃতিকে দেখেন, প্রত্যহ নানা গুঞ্জন, পাখির কলরব শোনেন, আকাশ দেখেন। এ দেখাটাই কবির সৃজন ক্ষমতাকে বাঁচিয়ে রাখে। কবির এই একান্ত অনুভূতি কখনো বিমর্ষ হয় না। কবির ‘মধ্য দুপুর’ কাব্যে মোট ৩৭টি কবিতা। সঙ্গে ইংরেজিতে অনুবাদও আছে।
কবিতাগুলোতে বিভিন্ন ব্যঞ্জনায় বিভিন্ন কথা এসেছে। কবির আবেগ, ব্যক্তিজীবন, চিন্তার মৌলিক আদর্শ, স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ। তিনি মানুষের অস্তিত্ব বোধ ও জ্ঞানের সঙ্গেও একাত্ম। আমি তার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।