কী লিখছি কী পড়ছি

মাহমুদ কামাল

সাহিত্য

কোনো কিছুই স্থির থাকে না। বিশ্বাসও স্থির নয়। ‘আজ যদি প্রিয়তমা কাল স্বৈরিণী’- এ রকম একটি পঙ্ক্তি লিখেছিলাম আজ থেকে

2026-10-02T14:35:17+00:00
2026-10-02T14:35:17+00:00
 
  শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬,
১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
সাহিত্য
কী লিখছি কী পড়ছি
মাহমুদ কামাল
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৫ পিএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
কোনো কিছুই স্থির থাকে না। বিশ্বাসও স্থির নয়। ‘আজ যদি প্রিয়তমা কাল স্বৈরিণী’- এ রকম একটি পঙ্ক্তি লিখেছিলাম আজ থেকে চল্লিশ বছর আগে। আবার বিশ্বাস ভঙ্গের  কয়েকটি পঙ্ক্তি এ রকম—
‘তোমাকে জেনেছি সত্য
দীর্ঘদিন
আজ প্রমাণিত হলো
মিথ্যে।
তোমাকে জেনেছি মিথ্যা
দীর্ঘদিন
আজ প্রমাণিত হলো
সত্য।
সত্য ও মিথ্যার সংজ্ঞা
কে দিয়েছিলেন
এখন তাকেই আমি
খুঁজছি।’

তা হলে ভাবনার স্থিতি কোথায়? কবিতা কি?— বোধকরি এর উত্তর এখনও অমীমাংসিত। সহজেই শ্রীশ দাশ মহাশয়ের, অপরিহার্য শব্দের অবশ্যম্ভাবী বাণী বিন্যাসকে কবিতা বলে— এই সংজ্ঞাটি সাহিত্যের ছাত্ররা খাতায় লিখুক, নম্বর পাক তাতে কোনো আপত্তি নেই কিন্তু সময়ের নিরিখে এর সংজ্ঞা আরও ব্যাপক হওয়া উচিত কবিতার অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী চারিত্র্যের কারণেই। 

কবিতা শুধু হয়ে ওঠার বিষয় নয়— গ্রহণেরও বিষয়। অন্তর্মুখী এবং বহির্মুখীর শিল্পসম্মত উপস্থাপনেই হতে পারে সফল কবিতা। কবিতা গঠনের নানা উপাদানের মধ্যে ছন্দ বিষয়টিকে জরুরি মনে করি। বাংলা কবিতা থেকে ছন্দ প্রায় নির্বাসিত। এ ক্ষেত্রে ছন্দ বলতে অন্তমিলকে বোঝানো হচ্ছে না। তা হলে মধুসূদনের অমিত্রাক্ষর ছন্দটি বাতিল হয়ে যায়।
‘ছন্দকে নিয়ে গেছে চিল
অন্তমিল এখন আসে না’


নিজের কবিতায় এই দুই পঙ্ক্তি প্রমাণ করে ছন্দের স্বপক্ষেই আমার অবস্থান। কবিতাটের শেষ দুই পঙ্ক্তি এ রকম—
‘চতুর চিলের ওই মুখ থেকে এই বার ছন্দকে পেড়ে এনে
কিংবা কেড়ে এনে বসিয়ে দিতে চাই আনুষঙ্গিক।’

ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ নয়— এ আমার নিজস্ব অনুভূতি। ধারণা করি বাংলা কবিতায়, বাংলাদেশের কবিতায় ছন্দ আবার ফিরে আসবে। হয়ে উঠবে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। উপযুক্ত বিষয় ছাড়াও সামগ্রিকতা নিয়ে কয়েক পঙ্ক্তি এখানে উদ্ধৃত করি; এ কথা জোর দিয়েই বলি কবিতায় যদি সামগ্রিকতা না থাকে তবে সেই কবিতাটি নির্দ্বিধায় বাতিল করা যেতে পারে। ছন্দ যেমন নির্বাসিত, পাশাপাশি কবিতায় সামগ্রিকতাও অনুপস্থিত। বর্তমানে সামগ্রিকতা গুণ বঞ্চিত কবিতাই লেখা হচ্ছে বেশি। আর নিজের কবিতা?— অন্তর্মুখ ও বহির্মুখের সঙ্গমই হচ্ছে একেকটি কবিতা। যা কিছু কাব্যকুশলতা তা ওই দুয়ের মিলনেই।

উপযুক্ত ব্যাখ্যার মধ্যেই নিজের লেখা সীমাবদ্ধ। মূলত কবিতাই লিখি। কবিতা লেখার মাঝেই অনুরোধের আসরে জন্মদিন কিংবা স্মারক গ্রন্থে লিখতে হচ্ছে নানা লেখা। সেসব লেখা মোটামুটি সৃষ্টিশীল করার চেষ্টা করি। নিজের সন্তানের মতো জ্ঞান করি বলেই লেখাগুলো বইয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়। লিখছি সে রকমই কিছু লেখা। কবিতা তো মজ্জাগতই। 
পড়াশোনার ব্যাপারে কখনোই নিয়মতান্ত্রিক ছিলাম না। হাতের কাছে যাই-ই পেতাম গোগ্রাসে গিলে ফেলতাম। এই পড়ন্ত বয়সে পড়াশোনা সংগত কারণেই নিয়ন্ত্রিত এবং নির্ধারিত। ভালো লাগা-মন্দ লাগা এখন পাল্টে গেছে। 

ওই যে শুরুতেই সত্য ও মিথ্যার যে সংজ্ঞাটির উল্লেখ করেছি এখন সেই মতো পুরোনো পাঠগুলো নতুন পাঠে কোনো কোনোটির আকর্ষণ হারিয়ে যাচ্ছে। ইদানীং রবীন্দ্রনাথকে ছোট করার চেষ্টা হচ্ছে। রবীন্দ্রনাথকে নতুন করে পড়ছি। বেশ আগে ‘অপরিহার্য রবীন্দ্রনাথ’ শিরোনামে একটি ছোট প্রবন্ধ লিখেছিলাম। নতুন পাঠে ওই শিরোনামটি এখনও অক্ষুণ্ন।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে
  বিষয়:   কী লিখছি  কী পড়ছি 


Advertisement
Loading...
Loading...
সাহিত্য- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: