দিনলিপি তো অনেকেই লেখেন, কিন্তু সেটিকে যাপিত জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ বানিয়ে ২০টি বছর কাটিয়ে দেওয়া মানুষ আমাদের সমাজে বিরল। জীবন তো সবারই কাটে, কিন্তু প্রতিটি দিনকে গভীরভাবে ধারণ করা কিংবা ধরে রাখার সাধনা সবার থাকে না। সেখানে দীর্ঘ ২০ বছরের বেশি সময় ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে নিয়মিত দিনলিপি লিখে বিরল নজির স্থাপন করেছেন শিক্ষক, লেখক ও সাংবাদিক আরিফ খান সাদ। বাইতুল মুকাররম বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে তার দীর্ঘ বিশ বছরের সংগ্রহ থেকে এক বছরের দিনলিপি-‘পুণ্য ভ্রমণের দিনলিপি (২০১৭-১৮)।’
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বাদ আসর বাইতুল মুকাররম মসজিদের পূর্ব চত্বরে ইসলামি বইমেলার লেখক কর্নারে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন দেশের বরেণ্য লেখক, কবি, সাহিত্যিক, সম্পাদক ও শুভানুধ্যায়ীরা।
লেখক কিশোর বয়সে আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরি পড়ে প্রভাবিত হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মাত্র ১৩ বছরের কিশোরী আনা ফ্রাঙ্ক ডায়েরি লিখে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। সেই অনুপ্রেরণা থেকেই ২০০৫ সাল থেকে এই লেখক নিয়মিত ডায়েরি লেখা শুরু করেন। ২০০৫ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে লিখিত ডায়েরিগুলো পারিবারিক পাঠাগারে ব্যক্তিগতভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে ‘জীবনের ঝরাপাতা’ শিরোনামে। সেই ২০ বছরের সংকলন থেকেই পূর্ণ এক বছরের দিনলিপি পাঠকের উদ্দেশ্যে আলাদা মলাটে প্রকাশ করা হয়েছে ‘পুণ্য ভ্রমণের দিনলিপি’ নামে। ২০১৭ সালের ১৫ মে থেকে ২০১৮ সালের ১৫ মে পর্যন্ত এক বছরের দিনলিপি ও ভ্রমণবৃত্তান্ত নিয়ে এই গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে বাংলাবাজারের বাতায়ন পাবলিকেশন্স।
বইটির প্রাপ্তিস্থান বইমেলার ৬৭ নম্বর স্টল। ছবি : সংগৃহীত
বইটিতে এক বছরে ১৮ জেলায় তাবলিগি সফরের দিনলিপির পাশাপাশি তাবলিগ জামাতের ১০০ বছরের প্রামাণ্য ইতিহাস, দর্শন ও তত্ত্ব অত্যন্ত মুনশিয়ানার সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।
দিনলিপির এই বইয়ে লেখক নিজের জীবনকে ধারণ করেছেন একটি প্রাণবন্ত উপন্যাসের মতো। এক বছরের পুণ্য ভ্রমণের দিনগুলোকে তিনি সযত্নে লিপিবদ্ধ করেছেন, ধরে রেখেছেন পথের দৃশ্য, মানুষের কথা, ছোট-বড় মুহূর্ত, অনুভব, ভাবনা, পাঠ ও পথচলার অনেক জীবন্ত ছবি। তাই নির্দ্বিধায় বলা যায়, এটি সাধারণ কোনো দিনলিপি বা ভ্রমণকাহিনি নয়; বরং একটি সমাজ, একটি জীবন এবং একটি যুগের মলাটবদ্ধ দলিল।
৫১২ পৃষ্ঠার বইটির প্রচ্ছদ করেছেন খন্দকার যুবাইর। বইটির মুদ্রিত মূল্য ৭২০ টাকা হলেও বইমেলায় বিশেষ ছাড়ে ৪৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বইটির প্রাপ্তিস্থান বইমেলার ৬৭ নম্বর স্টল। এছাড়া, বাংলাবাজারে বাতায়ন পাবলিকেশন্সের নিজস্ব দোকান এবং অনলাইনে রকমারি ও ওয়াফি লাইফে বইটি পাওয়া যাবে।
উল্লেখ্য, লেখক আরিফ খান সাদ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে মাদরাসায় শিক্ষকতা এবং অর্ধযুগেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় গণমাধ্যমে সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ধর্মতত্ত্ব, ইতিহাস, দর্শন, ভ্রমণ, গদ্য ও কবিতায় তার প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা দশের ঘরে পৌঁছেছে এবং পাঠক মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে।