রাজবাড়ী শহরের আজাদী ময়দানসংলগ্ন জেলা বিএনপি কার্যালয়ের কলাপসিবল গেটে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে কে বা কারা গেটে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে আগুন নিজে থেকেই নিভে যাওয়ায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ঘটনাটি নাশকতার চেষ্টা কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
খবর পেয়ে শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হক, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ, তদন্ত ওসি সুমন হোসেন, গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফিজুল ইসলামসহ পুলিশের কর্মকর্তারা।
পার্টি কার্যালয়ের কেয়ারটেকার আতর আলী বলেন, শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা চলে যাওয়ার পর তিনি কার্যালয়ে এসে সবকিছু ঠিকঠাক করে তালা দিয়ে চলে যান। রাত ১টার দিকে তিনি আবার কার্যালয়ের আশপাশ ঘুরে বাড়ি ফিরে যান। সকালে ঘুম থেকে উঠে চা খেতে আসার পর তাঁর স্ত্রী কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার বিষয়টি জানান।
পরে সেখানে গিয়ে তিনি কলাপসিবল গেট আগুনে পুড়ে কালো হয়ে থাকতে দেখেন। কার্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে কেরোসিনের গন্ধও পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম রোমান বলেন, রাতের আঁধারে কোনো দুর্বৃত্ত বা অপশক্তি কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হবে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তৎপর রয়েছেন।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবিব বলেন, বিএনপি সরকারের সাত মাসের কার্যক্রম নস্যাৎ করতে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী বাবু বলেন, ‘আমরা এখনই কারও ওপর দোষারোপ করছি না। কোনো দুর্বৃত্ত অসৎ উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলেও আমরা আশঙ্কা করছি।’ তিনি জানান, ঘটনাটি তদন্তে তিন থেকে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হবে।
রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
সময়ের আলো/এনএন