জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) নৈশভোজে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি নিয়ে অপতথ্য ছড়ানোর অভিযোগ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব ও সাংবাদিক শফিকুল আলম।
শনিবার (৩ অক্টোবর) নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, ট্রাম্প যখন ইউএনজিএর নৈশভোজে অধ্যাপক ইউনূসসহ কয়েক ডজন বিশ্বনেতাকে আতিথ্য দিয়েছিলেন, তখন হোয়াইট হাউস প্রায় এক সপ্তাহ পর ওই অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক ছবিগুলো প্রকাশ করে।
শফিকুল আলমের দাবি, ওয়াশিংটন ডিসি থেকে তারা জানতে পেরেছেন, উচ্চপর্যায়ের এসব নৈশভোজের ছবি প্রক্রিয়াজাত ও প্রকাশ করতে হোয়াইট হাউস নিয়মিতভাবেই কিছুটা সময় নেয়।
তিনি আরও দাবি করেন, ছবিগুলো প্রকাশের আগেই ঢাকায় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ‘বট নেটওয়ার্ক’ থেকে ব্যাপক অপতথ্য ছড়ানো শুরু হয়। তাদের পক্ষ থেকে অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে ট্রাম্পের ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি এবং পুরোপুরি ভুয়া বলে দাবি করা হয়।
শফিকুল আলমের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ-সমর্থিত একজন ইউটিউবারও দীর্ঘ একটি ভিডিওতে ছবিটি ব্যাপকভাবে কারসাজি করা হয়েছে বলে দাবি করেন। বিষয়টিকে বিদ্রূপাত্মক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই ইউটিউবারের স্বামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগ-সমর্থিত একজন সাংবাদিকতা অধ্যাপক, যিনি বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মশালায় সাংবাদিকদের ভুয়া খবর শনাক্ত ও ফ্যাক্টচেকিংয়ের পদ্ধতি নিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশগুলোর উদাহরণও টানেন শফিকুল। তিনি বলেন, এসব দেশে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা গুরুতর আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন। এমনকি মানহানির মামলায় বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভিন্ন দাবি করে তিনি বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ্যে মিথ্যা তথ্য প্রচার করেও ষড়যন্ত্রতত্ত্বে বিশ্বাসী দলীয় সমর্থকদের প্রশংসা পাওয়া যায়। অথচ এসব কর্মকাণ্ডের সমালোচনা বা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হলে তারা ‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতা’র আড়ালে আশ্রয় নেন।
পোস্টের শেষ দিকে গত সপ্তাহের একটি ঘটনার উদাহরণ দেন শফিকুল আলম। তিনি দাবি করেন, প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়ে একটি বৈঠকে একজন সাবেক সংবাদপত্র সম্পাদক সাংবাদিকদের ওই আইনের আওতার বাইরে সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখার পক্ষে যুক্তি দেন। শফিকুলের অভিযোগ, ওই সম্পাদকের পত্রিকায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অধ্যাপক ইউনূসকে নিয়ে অসংখ্য মিথ্যা ও বানোয়াট প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
সময়ের আলো/এসএকে