দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি স্থলবন্দর এলাকার একমাত্র কর্মসংস্থান ‘আরনু জুটমিল’ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে পুনরায় চালু হয়েছে। মিলটির কার্যক্রম শুরু হওয়ায় স্থানীয় শত শত শ্রমিক ও তাদের পরিবারে আনন্দ ও স্বস্তি ফিরে এসেছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে তিনটায় মিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর কথা ছিল। দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এটি উদ্বোধন করার কথা ছিল। তবে দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের ব্যস্ততার কারণে তারা উপস্থিত থাকতে পারেননি।
পরে ওই দিন রাত আটটার দিকে মন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ জুটমিলটির কার্যক্রম পুনরায় উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী এবং পৌর বিএনপির সভাপতি মো. মোতালেব হোসেন মিঠু খান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. জুয়েল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াহেদুর রহমান রিপনসহ জুটমিল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং শত শত শ্রমিক।
আরনু জুটমিলের স্বত্বাধিকারী আলহাজ শাফি শেখ জানান, পারিবারিক (ভাই-বোন) মালিকানা দ্বন্দ্বের জেরে আদালত পর্যন্ত দৌড়ঝাঁপ করতে হয়েছিল। এর মধ্যে মিলের মূল্যবান যন্ত্রপাতি চুরি এবং তৈরি চটের বস্তাভর্তি একটি ট্রাক গায়েব হয়ে যাওয়ায় তিনি ব্যবসা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে এলাকার শত শত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বেন—এই কথা ভেবে তিনি পুনরায় মিলটি চালুর উদ্যোগ নেন।
মিলটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। কারখানাটি চালু হওয়ায় শ্রমিকরা এখন পরিবারের সদস্যদের দুমুঠো ডাল-ভাতের ব্যবস্থা করতে পারবেন এবং এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের সাপ্তাহিক কিস্তি পরিশোধ করতে পারবেন। নিয়মিত কাজ করে মিলটিকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন কর্মরত শ্রমিকরা।
অনুষ্ঠানে নেতৃবৃন্দ বলেন, মিলটি ভালোভাবে পরিচালনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমাদের সবার। মালিকপক্ষকে সহযোগিতা করলে শ্রমিকরা সময়মতো তাদের সঠিক বেতন পাবেন। এই জুটমিলটি চালুর ফলে এলাকার বহু মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। মিলটির উৎপাদনশীলতা সচল রাখতে তারা সব শ্রমিক ও স্থানীয় জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
সময়ের আলো/জোই