কুয়াকাটার মিশ্রিপাড়ায় শতবর্ষী বৌদ্ধ বিহার ও রাখাইন সংস্কৃতির অনন্য আকর্ষণ

ছগির হোসেন, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

সারাদেশ

একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার অনন্য ভূমিরূপের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত পর্যটন নগরী কুয়াকাটা। বঙ্গোপসাগরের দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার সৈকত

2026-10-04T13:06:34+00:00
2026-10-04T13:07:03+00:00
 
  রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬,
১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
সাগরকন্যার সাত রূপ
কুয়াকাটার মিশ্রিপাড়ায় শতবর্ষী বৌদ্ধ বিহার ও রাখাইন সংস্কৃতির অনন্য আকর্ষণ
ছগির হোসেন, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
প্রকাশ: রোববার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৬ পিএম  আপডেট: ০৪.১০.২০২৬ ১:০৭ পিএম
কুয়াকাটার মিশ্রিপাড়ায় শতবর্ষী বৌদ্ধ বিহার ও রাখাইন সংস্কৃতি। ছবি : সময়ের আলো
একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার অনন্য ভূমিরূপের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত পর্যটন নগরী কুয়াকাটা। বঙ্গোপসাগরের দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার সৈকত ঘুরে দেখার পর যখন পর্যটকরা জানতে পারেন এখানকার উপকূলে লুকিয়ে থাকা উপমহাদেশের অন্যতম বৃহত্তম ও প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারের কথা, তখন তারা ছুটে যান সেখানে।

আরও পড়ুন

কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাখাইন অধ্যুষিত মিশ্রিপাড়া গ্রাম, যেখানে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহ্যবাহী সীমা বৌদ্ধ বিহার। মূলত সাগরকন্যার গল্প কেবল সমুদ্রের ঢেউয়ে সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে শতবর্ষী ইতিহাস, রাখাইন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বর্ণিল জীবনযাপন ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতি।


ঐতিহাসিক পটভূমি ও স্থাপত্য
পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার ৭ নম্বর লতাচাপলী ইউনিয়নে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক মিশ্রিপাড়া সীমা বৌদ্ধ বিহার। প্রায় একশ বছর পূর্বে মিশ্রি তালুকদার ও ভারতের আসামের উনারদা মহাথেরোর উদ্যোগে এই বিহার প্রতিষ্ঠিত হয়। বার্মা (বর্তমান মিয়ানমার) থেকে আসা পাঁচজন ভাস্কর দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে এর নির্মাণকাজ শেষ করেন। ৩২ ফুট উঁচু এই বিহারের মূল আকর্ষণ এখানকার বিশাল বৌদ্ধ মূর্তিটি। স্থানীয় প্রবীণদের মতে, প্রাচীনকালে এই অঞ্চল প্লাবিত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে ধর্মীয় ঐতিহ্য ও শাসন টিকিয়ে রাখতে এই বৌদ্ধ প্রতীক স্থাপন করা হয়েছিল।


পর্যটন ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন
সকালে সমুদ্র সৈকতে সূর্যোদয় উপভোগের পর পর্যটকদের একটি বড় অংশ ছুটে যান মিশ্রিপাড়ায়। কেউ দেখেন বৌদ্ধ বিহার, কেউ ঘুরে দেখেন ঐতিহ্যবাহী রাখাইন পল্লী, আবার কেউ কেনাকাটা করেন স্থানীয় কুটিরশিল্পের পণ্য। বিহারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই পর্যটন অর্থনীতি স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় যোগ করেছে গতিশীলতা। এখানকার প্রধান আকর্ষণ রাখাইন নারীদের হাতে তৈরি তাঁতের শাড়ি, থ্রিপিস, শাল, বিছানার চাদর এবং নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী পিঠা। শীতকালীন পর্যটন মৌসুমে এখানে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।


স্থানীয় অর্থনীতি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল মোতালেব শরীফ জানান, কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা মিশ্রিপাড়ার সীমা বৌদ্ধ বিহার দেখার জন্য দারুণ আগ্রহী থাকেন। বর্তমানে এখানকার যাতায়াত ও আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ অত্যন্ত সন্তোষজনক।


কুয়াকাটা অঞ্চলের ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. নাজমুল হাসান বলেন, মিশ্রিপাড়ায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সবসময় সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালন করছে।


কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াছিন ছাদেক বলেন, এই বৌদ্ধ বিহার আমাদের অঞ্চলের একটি অমূল্য ঐতিহ্য। পর্যটকরা এখানে এসে সমুদ্রের পাশাপাশি দেশের প্রান্তিক জনপদের রাখাইনদের কৃষ্টি ও ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারছেন, যা পর্যটনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।


টেকসই পর্যটনের প্রত্যাশা
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পর্যটনের এই অপার সম্ভাবনাকে বাঁচিয়ে রাখতে পর্যটকদের সচেতন হওয়া জরুরি। বৌদ্ধ বিহারের পবিত্রতা রক্ষা এবং রাখাইনদের নিজস্ব জীবনধারা ও তাঁতশিল্পকে টিকিয়ে রাখার মাধ্যমে এই অঞ্চলে টেকসই পর্যটন গড়ে তোলা সম্ভব। প্রকৃতি, সমুদ্র ও সংস্কৃতির এই ত্রিমুখী অভিজ্ঞতা কুয়াকাটার ভ্রমণকে পর্যটকদের কাছে করে তুলছে আরও বেশি আকর্ষণীয় ও সমৃদ্ধ।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   পটুয়াখালী  সাগরকন্যার সাত রূপ  কুয়াকাটা  মিশ্রিপাড়া  শতবর্ষী বৌদ্ধ বিহার  রাখাইন সংস্কৃতি  অনন্য আকর্ষণ  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: