জন্মের পর যে বয়সে গাছের ডালে ওঠার কথা, শিকারের কৌশল শেখার কথা-সেই বয়সে দুটি লেপার্ডের ঠিকানা হয়ে যায় ছোট্ট একটি কোয়ারেন্টিন ঘর। তিন সপ্তাহের জন্য সেখানে থাকার কথা থাকলেও সময় গড়াতে গড়াতে সেই ঘরেই কেটে গেছে প্রায় নয় বছর।
দর্শনার্থীদের চোখের আড়ালেই বড় হয়েছে তারা। প্রকৃতির স্বাভাবিক পরিবেশ তো দূরের কথা, দীর্ঘ এই সময়ে তাদের জন্য আলাদা কোনো বেষ্টনিও ছিল না। অবশেষে দীর্ঘ বন্দিজীবনের সেই অধ্যায়ের শেষ হতে যাচ্ছে। গাজীপুর সাফারি পার্কে দুই লেপার্ডের জন্য তৈরি হচ্ছে আলাদা বেষ্টনী।
এ জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বেষ্টনীটি হবে ১৫০ বর্গমিটারের। সেখানে লেপার্ডের স্বাভাবিক চলাফেরা ও গাছে ওঠার সুযোগ তৈরিতে প্রাকৃতিক গাছপালা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তা সম্ভব না হলে কৃত্রিম গাছের ব্যবস্থাও করা হবে। পাশাপাশি থাকবে পানির ব্যবস্থা ও রাত কাটানোর জন্য নাইট শেল্টার।
গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান জানান, ২০২৪ সালে সাফারি পার্কের অত্যাবশ্যকীয় ব্যবস্থাপনা প্রকল্প চালু হয়। ওই প্রকল্পের আওতায় লেপার্ডের জন্য আলাদা বেষ্টনী তৈরির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ বেষ্টনী নির্মাণের জন্য ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, বেষ্টনীতে লেপার্ডের ক্লাইম্বিংয়ের সুবিধার জন্য ন্যাচারাল গাছপালা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেটি সম্ভব না হলে আর্টিফিশিয়াল গাছ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। থাকবে পানির সুবিধা এবং নাইট শেল্টারও। তবে বেষ্টনীটি সাফারি পার্কের ঠিক কোন স্থানে নির্মাণ করা হবে, সে বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। জায়গা নির্ধারণের পরই সিদ্ধান্ত হবে এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে কিনা।
যেভাবে শুরু হয়েছিল তাদের বন্দিজীবন
সাফারি পার্ক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৩ নভেম্বর যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া এলাকায় একটি গাড়ি থেকে দুটি লেপার্ড ও দুটি সিংহশাবক উদ্ধার করে পুলিশ। বন্য প্রাণী পাচারের অভিযোগে এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়।
পরে চারটি শাবককে আনা হয় গাজীপুর সাফারি পার্কে। নিয়ম অনুযায়ী, নতুন পরিবেশে আনার পর তাদের তিন সপ্তাহের জন্য কোয়ারেন্টিন শেডে রাখা হয়।
এরপর সিংহশাবক দুটিকে সাফারি পার্কের নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তর করা হলেও লেপার্ড দুটির আর কোয়ারেন্টিন শেড থেকে বের হওয়া হয়নি। সেখানেই ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে তারা।
উদ্ধারের সময় তাদের বয়স ছিল মাত্র দেড় মাস। সেই দুই ছোট শাবক এখন প্রায় নয় বছরের। অর্থাৎ জীবনের প্রায় পুরো সময়টাই কেটে গেছে গাজীপুর সাফারি পার্কের সেই ছোট ঘরে।
এখন তাদের জন্য তৈরি হচ্ছে ১৫০ বর্গমিটারের আলাদা বেষ্টনী। সেখানে গাছপালা, পানির ব্যবস্থা ও নাইট শেল্টারের পাশাপাশি থাকবে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা ও গাছে ওঠার সুযোগ।
প্রায় এক দশক পর প্রকৃতির কাছাকাছি পরিবেশে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা দুই লেপার্ডের জন্য তাই নতুন বেষ্টনীটি শুধু একটি ঘের নয়- এটি হতে যাচ্ছে তাদের দীর্ঘ বন্দিজীবন থেকে বেরিয়ে আসার নতুন ঠিকানা।
সময়ের আলো/আতা