সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা প্রীতম হাসান এবং মডেল-অভিনেত্রী শেহতাজ মুনিরা হাশেমের বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণায় সরগরম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। কেন এমন সিদ্ধান্ত—নেটিজেনদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন সেটিই। এরই মধ্যে বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়ালেও, সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ প্রকাশ্যে জানাননি দুজনের কেউ।
বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে বিভিন্ন অসমর্থিত সূত্রের বরাতে সামনে এসেছে প্রীতমের ব্যস্ততা, দাম্পত্য জীবনে সময়ের ঘাটতি এবং শেহতাজের পরিবর্তিত আচরণের বিষয়। তবে এগুলোকে তাদের বিচ্ছেদের নিশ্চিত কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
প্রীতমের ঘনিষ্ঠ এক মিউজিশিয়ানের দাবি, শো নিয়ে প্রীতমের ব্যস্ততা দিন দিন বাড়ছিল। এর ফলে সংসারে তার দূরত্ব তৈরি হচ্ছিল বলে তাদের ধারণা। ওই সূত্রের ভাষ্য, এসব কারণে শেহতাজও ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকেন।
শেহতাজের ঘনিষ্ঠ আরেকজনের দাবি, প্রীতমের ব্যস্ততার কারণে শেহতাজের পরিবর্তনকে অস্বাভাবিক মনে করার সুযোগ নেই। তবে এ সম্পর্কের টানাপোড়েনে দুজনেরই কিছু অভিযোগ ছিল বলে জানান তিনি। কয়েক মাস ধরে তারা নানা বিষয়ে মানসিক চাপে ছিলেন বলেও দাবি করেন ওই ব্যক্তি।
তবে বিচ্ছেদের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কোনো পক্ষই প্রকাশ্যে বিস্তারিত কিছু বলেননি।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে শেহতাজ জানান, পারস্পরিক সমঝোতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে তারা বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাচ্ছেন।
শেহতাজ লেখেন, ‘আমরা একসঙ্গে ভাগ করে নেওয়া স্মৃতিগুলোর জন্য কৃতজ্ঞ এবং এখনো একে অপরের প্রতি যত্নশীল। তবে সময়ের সঙ্গে আমরা উপলব্ধি করেছি যে, পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাবে আলাদা পথ চলাই আমাদের জন্য ভালো। অনেক ভেবেচিন্তে আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি।’
তিনি আরও জানান, পরিবারের সমর্থন নিয়ে তারা বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে বন্ধু, সহকর্মী ও গণমাধ্যমের কাছে এই সময়ে তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখানোর অনুরোধ করেন।
২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর প্রীতম হাসান ও শেহতাজ মুনিরা হাশেমের বিয়ে হয়। এর আগে প্রায় পাঁচ বছর প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন তারা। ২০১৭ সালে প্রীতমের ‘জাদুকর’ গানের মিউজিক ভিডিওতে কাজ করার সময় তাদের পরিচয় হয়। সেখান থেকেই তাদের সম্পর্কের শুরু।
দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ এই তারকা জুটির বিচ্ছেদের খবরে তাই ভক্তদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। তবে নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিস্তারিত না বলার সিদ্ধান্তই নিয়েছেন প্রীতম ও শেহতাজ।
সময়ের আলো/এসএকে