রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বসতি মেলা। ছবি : সময়ের আলো
বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বসতি মেলা। মেলার প্রথম দিনেই বিভিন্ন ধরনের আবাসন ও বাণিজ্যিক প্রকল্প নিয়ে গ্রাহকদের আগ্রহ দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশন লিমিটেডের সহকারী ম্যানেজার (মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস) নোমান পারভেজ।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে মেলা উদ্বোধনের পর থেকেই গ্রাহকদের আনাগোনা রয়েছে জানিয়ে নোমান পারভেজ বলেন, বিভিন্ন এলাকার অ্যাপার্টমেন্ট ও বাণিজ্যিক স্পেসের প্রয়োজন নিয়ে গ্রাহকরা তাদের সঙ্গে কথা বলছেন। সকালে উদ্বোধন হওয়ায় বিকেলে আসরের পর গ্রাহকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।
তিনি বলেন, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের পক্ষ থেকে মেলায় অংশ নিয়েছে আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশন লিমিটেড। গ্রুপটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশন লিমিটেড, হোল্ডিংস লিমিটেড, এস্টেট ম্যানেজমেন্ট ও ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট। প্রতিষ্ঠানটি অ্যাপার্টমেন্ট, বাণিজ্যিক ভবন, জমি, পাঁচ তারকা হোটেল ও শপিং মল নিয়ে কাজ করছে।
নোমান পারভেজ জানান, বর্তমানে গুলশান সাউথ অ্যাভিনিউয়ে পুলিশ প্লাজার পাশে ৩০ তলা একটি ভবনের কাজ চলছে। পাশাপাশি ইউরেকা টাওয়ার নামে আরেকটি ৩০ তলা ভবন এবং তেজগাঁও লিংক রোডে পাঁচটি বেজমেন্টসহ ৩৭ তলা একটি ভবনের কাজ চলছে।
গ্রাহকদের চাহিদা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেউ ২ হাজার বর্গফুট, কেউ ৫ হাজার আবার কেউ ১০ হাজার বর্গফুট জায়গা চাচ্ছেন। বর্তমানে কনডোমিনিয়াম প্রকল্পের চাহিদাও বেড়েছে।
আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের বিজয়নগর, বসুন্ধরা, নিকেতন ও আদাবরে কনডোমিনিয়াম প্রকল্প রয়েছে। বেরিবাঁধে শিকদার মেডিকেলের পাশে নতুন আরেকটি কনডোমিনিয়াম প্রকল্পের কাজ নেওয়া হয়েছে, যেখানে এ বছরই বিক্রি শুরু হবে বলে জানান তিনি।
আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশন লিমিটেডের সহকারী ম্যানেজার (মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস) নোমান পারভেজ। ছবি : সময়ের আলো
ছোট পরিবারের ক্ষেত্রে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ বর্গফুটের তিন বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের চাহিদা রয়েছে। আর পরিবারের সদস্য বেশি হলে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার বর্গফুটের চার বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের প্রয়োজন হচ্ছে বলে জানান নোমান পারভেজ। কনডোমিনিয়াম প্রকল্পে জীবনযাপনের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থাকায় গ্রাহকদের আগ্রহ বাড়ছে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া ধানমন্ডির সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে একটি শপিং মলের কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, বসুন্ধরা, নিকেতন ও উত্তরাসহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তাদের বাণিজ্যিক ভবন ও অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে।
কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ
গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি সম্পর্কে নোমান পারভেজ বলেন, চলমান প্রকল্পে অ্যাপার্টমেন্ট বা বাণিজ্যিক জায়গা বুকিংয়ের সময় ৩০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট বা বুকিং মানি নেওয়া হয়। বাকি ৭০ শতাংশ প্রকল্পের মেয়াদ অনুযায়ী কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, কোনো প্রকল্প শেষ হতে তিন বছর সময় লাগলে তিন বছরের কিস্তি, চার বছর লাগলে চার বছরের কিস্তির সুযোগ দেওয়া হয়। কিছু বাণিজ্যিক ভবনের ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের কিস্তির সুবিধাও রয়েছে। সেমি-রেডি প্রকল্পের ক্ষেত্রে হস্তান্তরের সময় অনুযায়ী তিন মাস, ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে কিস্তিতে মূল্য পরিশোধের সুযোগ রয়েছে।
পুরো টাকা একসঙ্গে পরিশোধ করতে না পারলে গ্রাহক চাইলে ব্যাংক ঋণ নিতে পারবেন বলেও জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বেঁধে দেওয়া হয় না বলে জানান নোমান পারভেজ। গ্রাহক তার পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিতে পারবেন।
মেলায় ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার বাজেটের গ্রাহক
মেলার প্রথম দিনে মিরপুর, আদাবর ও মোহাম্মদপুর এলাকার গ্রাহকদের বেশি পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান নোমান পারভেজ। তাদের মধ্যে অনেকেই সেমি-রেডি পণ্য খুঁজছেন এবং বাজেটও তুলনামূলক কম। এসব গ্রাহকের অনেকের বাজেট ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার মধ্যে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের ১ কোটি টাকার বেশি দামের অ্যাপার্টমেন্টও রয়েছে, যেগুলো বিভিন্ন মূল্যসীমায় পাওয়া যাচ্ছে।
তাৎক্ষণিক বুকিংয়ে বিশেষ ছাড়
৫ থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত মেলা চলবে জানিয়ে নোমান পারভেজ বলেন, মেলায় এসে কেউ তাৎক্ষণিক বুকিং দিলে বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। পুরো টাকা, ৫০ শতাংশ বা ৩০ শতাংশ টাকা পরিশোধ করে স্পট বুকিংয়ের ক্ষেত্রেও মেলা উপলক্ষে বিশেষ সুবিধা রয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া আমিন মোহাম্মদ হোল্ডিংস লিমিটেডের ‘দ্য ভ্যালি বাংলাদেশ’ নামে মাওয়া রোডের একটি প্রিমিয়াম জমি প্রকল্প রয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রকল্পটিতে ১২০, ৬০ ও ৩০ ফুট প্রশস্ত রাস্তা রয়েছে। দুটি সেক্টরে বিভক্ত প্রকল্পটিতে ১১টি মাঠ রয়েছে, যার অধিকাংশই তিন বিঘা করে।
নোমান পারভেজের দাবি, প্রকল্পটির মোট জায়গার ৪৫ শতাংশ খোলা রাখা হয়েছে। সেখানে খেলার মাঠ, ওয়াটার পার্ক, সিনিয়র সিটিজেন পার্কসহ বিভিন্ন ধরনের পার্ক রয়েছে। প্রকল্পে প্লট নিতে আগ্রহীদের সরেজমিনে প্রকল্পটি পরিদর্শনের পরামর্শ দেন তিনি।
‘ব্র্যান্ডিংয়ের দিক দিয়ে সেরা তিনটির একটি’
মেলায় অংশ নেওয়া অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে নোমান পারভেজ বলেন, ব্র্যান্ডিংয়ের দিক দিয়ে আমিন মোহাম্মদ গ্রুপ সেরা তিনটি কোম্পানির একটি। গ্রাহকসেবা, গ্রাহক সন্তুষ্টি ও প্রকল্প হস্তান্তরসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নোমান পারভেজ বলেন, ‘আমরা সবসময় ব্র্যান্ডিংয়ের দিকটাই দেখি।’ গ্রাহকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আবাসন কেনার ক্ষেত্রে শুধু কথার ওপর নির্ভর না করে প্রকল্প সরেজমিনে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।