জাহ্নবী কাপুরের অভিনীত জনপ্রিয় গান ‘চুট্টামাল্লে’কে কেন্দ্র করে এআই দিয়ে তৈরি অশালীন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। তার ভাষায়, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নারীদের সম্মতি ছাড়া বিকৃত কনটেন্ট তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়া যৌন নিপীড়নেরই আরেক রূপ।
তেলুগু সিনেমা ‘দেবারা’য় জুনিয়র এনটিআরের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন জাহ্নবী। সিনেমাটির ‘চুট্টামাল্লে’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর সম্প্রতি সেটিকে ব্যবহার করে তৈরি একটি আপত্তিকর এআই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে এনটিআর ও চিরঞ্জীবীও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক লিখিত বার্তায় জাহ্নবী বলেন, ‘প্রযুক্তির অপরাধমূলক অপব্যবহার করে নারীদের পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা, সম্মতি ছাড়া বিকৃত কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া— এসব যৌন নিপীড়নেরই আরেক রূপ। আমাদের ইন্ডাস্ট্রির প্রায় প্রতিটি নারীই এরকম কোনো না কোনো অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন। আর সবখানেই নারীরা এমন আচরণের শিকার হচ্ছেন।’
নারীর সম্মতি ও ব্যক্তিগত সীমারেখার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন নারী কী পরবেন, কোথায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন কিংবা নিজের শরীর নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা একান্তই তার নিজের বিষয়।
জাহ্নবী আরও বলেন, নারীদের প্রতি হুমকি এখন ডিজিটাল জগতেও ছড়িয়ে পড়েছে। অথচ আমরা এখনও সেই বাস্তব, শারীরিক ভয়টিকেই যথেষ্টভাবে মোকাবিলা করতে পারিনি, যে ভয় প্রতিদিন নারীদের জীবনকে ব্যাহত করে চলেছে। এর উত্তর শুধু ‘তোমার মেয়েকে সুরক্ষিত রাখো’— এমন হতে পারে না। একই সঙ্গে আমাদের সেই মানসিকতার বিরুদ্ধেও কাজ করতে হবে, যেটার কারণে মানুষ বিশ্বাস করে, অন্যের সীমারেখা লঙ্ঘন করার অধিকার তাদের রয়েছে। আর এই পরিবর্তনের একটি অংশ আসবে এমন আদর্শ পুরুষদের কাছ থেকে, যাদের নৈতিক বোধ ও দৃঢ়তা আছে—যারা স্পষ্টভাবে বলতে পারেন, কোনটি সঠিক এবং কোনটি ভুল।
এ ঘটনায় পাশে দাঁড়ানোয় এনটিআর ও চিরঞ্জীবীর প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানিয়ে জাহ্নবী বলেন ‘একজন নারী কি সত্যিই এতটুকুও চাইতে পারেন না, যে তাকে একজন মানুষ হিসেবে সম্মানের সঙ্গে দেখা ও বিবেচনা করা হোক? শরীরটা যখন নারীর, তখন তার ছবি, সীমারেখা এবং সিদ্ধান্ত সবই তার নিজের।’
সময়ের আলো/এমকে