টাকা না দেওয়ায় ট্রলি মেলেনি, অক্সিজেন নিয়ে ছোটাছুটির পর শিশুর মৃত্যু

ফরিদপুর সংবাদদাতা

সারাদেশ

এক হাতে অক্সিজেনের মাস্ক, অন্য হাতে ঝুলছে স্যালাইনের বোতল। কোলে সংকটাপন্ন চার বছরের শিশু। পাশে স্বজনের হাতে ভারী অক্সিজেন সিলিন্ডার।

2026-10-06T18:40:13+00:00
2026-10-06T18:40:13+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬,
২১ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
টাকা না দেওয়ায় ট্রলি মেলেনি, অক্সিজেন নিয়ে ছোটাছুটির পর শিশুর মৃত্যু
ফরিদপুর সংবাদদাতা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪০ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
এক হাতে অক্সিজেনের মাস্ক, অন্য হাতে ঝুলছে স্যালাইনের বোতল। কোলে সংকটাপন্ন চার বছরের শিশু। পাশে স্বজনের হাতে ভারী অক্সিজেন সিলিন্ডার। এভাবেই শিশুটিকে নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দিকে ছুটছেন স্বজনরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন একটি ভিডিও ঘিরে হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার অব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

মারা যাওয়া শিশুটির নাম রুহুল আমিন (৪)। সে ফরিদপুর সদর উপজেলার পুরদিয়া গ্রামের মাফুজুরের ছেলে। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, গুরুতর অসুস্থ রুহুল আমিনকে দ্রুত জরুরি বিভাগে নেওয়ার জন্য ট্রলি চাওয়া হলে হাসপাতালের কর্মচারীরা টাকা দাবি করেন। তাৎক্ষণিক সেই টাকা দিতে না পারায় ট্রলি দেওয়া হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে শিশুটিকে কোলে নিয়ে অক্সিজেন ও স্যালাইনসহ দৌড়ে যেতে হয় তাদের।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি অক্সিজেনের মাস্ক লাগানো শিশুটিকে কোলে নিয়ে ছুটছেন। তার সঙ্গে থাকা দুজনের একজন অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং অন্যজন স্যালাইনের বোতল বহন করছেন। এ সময় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শোনা যায় স্বজন ও উপস্থিত কয়েকজনকে।

স্বজনরা জানান, সময়মতো ট্রলি না পাওয়ায় শিশুটিকে কোলে নিয়েই হাসপাতালে নিতে হয়। এ সময় তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।

তবে ট্রলি পেতে বিলম্বের কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও সচেতন মহলের অনেকে।


এদিকে ট্রলির জন্য টাকা চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মানষ কৃষ্ণ কুন্ডু। পরিচালক অবসরে যাওয়ায় তিনি অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন।

তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা নার্স ও ওয়ার্ডবয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, স্বজনদের অভিযোগ সঠিক নয়।

ডা. মানষ কৃষ্ণ কুন্ডু বলেন, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তাই ট্রলিতে নেওয়া হলে তার জন্য আরও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এ কারণে নার্সরা শিশুটিকে ট্রলিতে নিতে নিষেধ করেছিলেন। এর বাইরে আর কোনো কারণ নেই।

সময়ের আলো/এসএকে
  বিষয়:   ট্রলি  শিশু  মৃত্যু  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: