কর ফাঁকি শনাক্ত ও করের আওতা বাড়াতে এবার তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বিভিন্ন সরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য একত্র করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে সম্ভাব্য করদাতা শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ব্যাংক হিসাব, জমি-ফ্ল্যাট, গাড়ি, সঞ্চয়পত্র ও বিদেশ ভ্রমণের তথ্য আয়কর নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিশেষ নজরে থাকবেন বিলাসবহুল ও দামি গাড়ির মালিকরা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ডাটাবেজের তথ্যের সঙ্গে করদাতাদের আয়কর নথি সমন্বয় করে দেখা হবে— গাড়ির মালিক নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করছেন কি না এবং ঘোষিত আয় ও সম্পদের সঙ্গে গাড়ির মূল্য সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।
গত রোববার সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়েছে। মঙ্গলবার এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বৈঠক-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন উৎসের তথ্য এক জায়গায় এনে বিশ্লেষণ করা হলে আয় গোপন বা সম্পদের প্রকৃত মূল্য কম দেখানোর প্রবণতা সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। কারও নামে দামি গাড়ি থাকলেও তিনি রিটার্ন না দিলে কিংবা রিটার্নে দেখানো আয়-সম্পদের সঙ্গে গাড়ির মূল্যের বড় ধরনের অসংগতি থাকলে তা কর কর্মকর্তাদের নজরে আসবে।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টিআইএনধারী থাকলেও আয়কর রিটার্ন দেন প্রায় ৪৭ লাখ। ফলে বিপুলসংখ্যক টিআইএনধারীকে নিয়মিত রিটার্নের আওতায় আনার সুযোগ রয়েছে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এ লক্ষ্য অর্জনে করের ভিত্তি সম্প্রসারণের পাশাপাশি অটোমেশন ও ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজস্ব বাড়ানোর উদ্যোগে ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। কর ফাঁকি রোধে কঠোরতার পাশাপাশি যেন তা করদাতাদের হয়রানির কারণ না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে করের ভিত্তি সম্প্রসারণ এবং অটোমেশনের ব্যবহার বাড়ানো জরুরি।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ