বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়ায় চরম অনিয়ম, তথ্য গোপন ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসের নোটিশ বোর্ডে প্রদর্শিত শূন্য পদের তালিকায় নাম না থাকা সত্ত্ব্ওে গোপনে ৩টি সুবিধাজনক বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদায়ন করা হয়েছে। এতে বদলি প্রত্যাশী বহু সাধারণ শিক্ষক আবেদন করার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, পদায়ন পাওয়া তিন শিক্ষক হলেন—২৫ নম্বর জোকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাকলি খানম, ১৭৯ নম্বর খালকুলিয়া পল্লী মঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সুরভী আফরিন এবং ২৪০ নম্বর দৈবজ্ঞহাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রুমা আক্তার।
ভুক্তভোগী শিক্ষকদের সূত্রে জানা গেছে, বদলির আবেদন আহ্বানের পর উপজেলা শিক্ষা অফিসের নোটিশ বোর্ডে যে শূন্য পদের তালিকা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তাতে উল্লেখিত ৩টি বিদ্যালয়ের নাম ছিল না। ফলে জরুরি প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও সাধারণ শিক্ষকরা এসব প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারেননি। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় এই বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক পদায়ন হতে দেখে শিক্ষক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অবসরজনিত কারণে বিদ্যালয়গুলোতে পদ খালি হয় এবং সমন্বিত প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা সিস্টেমে পদগুলো শূন্য দেখাচ্ছিল। তবে রহস্যজনকভাবে অফিসের নোটিশ বোর্ডের তালিকায় এগুলোর নাম বাদ দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাধারণ শিক্ষকদের আইপিইএমআইএস সিস্টেমে সরাসরি শূন্য পদ দেখার সুযোগ নেই। নোটিশ বোর্ডই আমাদের ভরসা। নোটিশ বোর্ডে পদ গোপন রাখা সত্ত্বেও বিশেষ সুবিধা পাওয়া শিক্ষকরা কীভাবে এসব পদের খবর পেলেন এবং আবেদন করলেন, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাসরিন আক্তার জানান, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। তিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট যাবতীয় কাগজপত্র তলব করেছেন এবং নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
উপজেলার বঞ্চিত শিক্ষকরা অবিলম্বে নিয়মবহির্ভূত এই ৩টি বদলি আদেশ বাতিল এবং পদগুলো পুনরায় উন্মুক্ত করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আবেদন গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
সময়ের আলো/জেডি