সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের কানাইঘাটের দুই প্রবাসী আবদুল করিম ও খালিদ আহমদের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। দীর্ঘ তিন বছর পর জীবিত অবস্থায় পরিবারের কাছে ফেরার কথা ছিল তাদের। কিন্তু সেই অপেক্ষার অবসান হলো কফিনবন্দি হয়ে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-২৩৬ ফ্লাইটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় তাদের মরদেহ। মরদেহ দুটি বিমানবন্দরে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
নিহত আবদুল করিম ও খালিদ আহমদ সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের লামার তালুক গ্রামের বাসিন্দা। তারা পরস্পরের প্রতিবেশী।
গত ৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের তায়েফ থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে আল-খুরমা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন তারা।
খালিদ আহমদের মৃত্যুর পর সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে তার পরিবার। দেশে প্রায় ছয় লাখ টাকা ঋণ রয়েছে তাদের। তার ওপর রয়েছে আট সন্তান। সংসারের আর্থিক টানাপোড়েন সামলাতে সৌদি আরবে গিয়ে উপার্জন করছিলেন খালিদ। কিন্তু দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে পরিবারের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো সঞ্চয় রেখে যেতে পারেননি তিনি।
স্বজনদের ভাষ্য, পরিবারের আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়। ঋণের বোঝা, আট সন্তানের ভরণপোষণ ও সংসারের খরচ চালানোর দায়িত্ব ছিল খালিদের আয়ের ওপর। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি একদিকে স্বজন হারানোর শোক, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
একই ধরনের আর্থিক সংকটে রয়েছে আবদুল করিমের পরিবারও। প্রবাসে থেকে পরিবারের জন্য উপার্জন করলেও দেশে ফেরার আগেই প্রাণ হারাতে হলো তাকেও।
স্বজনরা জানান, দীর্ঘ তিন বছর পর দেশে ফেরার কথা ছিল দুই প্রবাসীর। পরিবারে ছিল আপনজনকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষা। কিন্তু সেই অপেক্ষার শেষে বিমানবন্দরে স্বজনদের সামনে হাজির হয় তাদের মরদেহ।
প্রবাসে গিয়ে পরিবারের আর্থিক সংকট কাটানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন তারা। সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল দুজনের প্রাণ। এখন তাদের পরিবারে রয়ে গেছে ঋণ, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা আর প্রিয়জন হারানোর শোক।
বৃহস্পতিবার মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের পর কানাইঘাটে নেওয়া হয়। বিকেলে উপজেলার গাছবাড়ির আকুনি মাদ্রাসায় জানাজা শেষে নিজ গ্রাম লামার তালুকে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।
এদিকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে দাফন-কাফনের জন্য দুই পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে।
৭ নম্বর দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন বলেন, দুই পরিবারই স্বজন হারানোর পাশাপাশি আর্থিক সংকটে পড়েছে। তাদের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সময়ের আলো/এনএন