আশুলিয়ায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক স্থানে নারী শ্রমিকসহ তিন নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধের জেরে স্বামীর হাতে এক গৃহবধূ খুন হন। এছাড়া নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে প্রবাসীর স্ত্রীর বিবস্ত্র মরদেহ ও ভাড়া বাসা থেকে নারী পোশাক শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরপর তিনটি হত্যার ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১১টার আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম খুনের বিষয়ে নিশ্চিত করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকালে পারিবারিক কলহ ও পরকীয়ার সন্দেহে আঁখি আক্তারকে ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে স্বামী জাহিদ। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে খাটের ওপর রক্তাক্ত মরদেহটি উদ্ধার করেন। ঘটনার পর স্থানীয় জনতার সহায়তায় ঘাতক স্বামী জাহিদ হাসানকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত নারী হলেন, শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী থানার ঘাগড়া কবিরাজপাড়া গ্রামের আবেদ আলীর মেয়ে আঁখি আক্তার।
এ ঘটনায় আটক ব্যক্তি হলেন, শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী থানার সিটপাড়া গ্রামের তাইজুদ্দিনের ছেলে ঘাতক জাহিদ হাসান।
এর আগে বুধবার রাতে আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের কলতাসূতি মরিচকাটা এলাকায় নিজ বাড়ির ছাদ থেকে রোকসানা বেগম (৪০) নামে দুবাই প্রবাসীর স্ত্রীর বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহত হলো, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার দক্ষিণ পাকুল্লা এলাকার প্রবাসী মকবুল হোসেনের স্ত্রী রোকসানা বেগম। প্রায় দুই মাস আগে তারা মরিচকাটা এলাকায় নিজেদের নির্মাণাধীন পাঁচতলা ভবনের তিনতলায় বসবাস শুরু করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যায় ভবনের ছাদে পানির ট্যাংক দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হন রোকসানা। দীর্ঘক্ষণ নেমে না আসায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করে ছাদে তার বিবস্ত্র ও রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূর আমিন জানান, নিহতের গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নতুন বাড়ি নির্মাণ কেন্দ্রিক চাঁদা দাবি, আর্থিক লেনদেন কিংবা পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধ সব দিক মাথায় রেখে তদন্ত চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে গতকাল বুধবার বিকেলের দিকে আশুলিয়া শিমুলিয়ার পাগলাবাজার সংলগ্ন এলাকায় দেলোয়ার হোসেন দেওয়ানের ভাড়া বাড়ি থেকে তানিয়া খাতুন নামের এক নারী পোশাক শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত নারী শ্রমিক হলো, সাতক্ষীরা সদর থানার বাগডাঙ্গা এলাকার মিজানুর রহমানের মেয়ে তানিয়া খাতুন।
পুলিশ জানায়, নিহত তানিয়া পলমল গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন এবং ওই বাড়িতে একা ভাড়া থাকতেন। বিছানার ওপর থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের গলায় স্পষ্ট আঘাত ও শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নারী শ্রমিকসহ তিনজনের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আশা হয়েছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সকালে সংঘটিত হত্যার ঘটনায় স্বামীকে তাৎক্ষণিক আটক করা হয়েছে। বাকি দুটি ঘটনার ক্লু উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সময়ের আলো/এনএন