ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চালানো ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। সেই ঝুঁকি নিতে নাবিকদের দিতে হচ্ছে অস্বাভাবিক উচ্চ বেতন ও বিশেষ বোনাস।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যানশিয়াল টাইমস জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেওয়া তেলবাহী জাহাজের ক্যাপ্টেনরা মাসে সর্বোচ্চ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত বেতন পাচ্ছেন। এর সঙ্গে প্রতিবার প্রণালি পার হওয়ার জন্য দেওয়া হচ্ছে আরও ৫০ হাজার ডলার বোনাস। সাধারণ নাবিকদের ক্ষেত্রেও স্বাভাবিক বেতনের চার থেকে ছয় গুণ পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর মাত্র সাতটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, যা ২৩ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন। গত সপ্তাহে তেলবাহী জাহাজে হামলাও যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তবে ঝুঁকি সত্ত্বেও উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রফতানি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন এবং ছোট জাহাজের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ ‘শিপ-টু-শিপ’ স্থানান্তরের কারণে তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ বিকল্প পথে বের করে নেওয়া হচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসে মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানি যুদ্ধ শুরুর আগের মাত্রা ছাড়িয়েছিল।
হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে হামলা এড়াতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। ছোট শাটল জাহাজগুলো অনেক সময় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রেখে রাতে চলাচল করছে। বড় জাহাজের ক্ষেত্রেও আলো ও ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিছু জাহাজে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সুরক্ষার জন্য ডেকে বালুর বস্তা দিয়ে প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও তৈরি করা হচ্ছে।
জাহাজমালিকদের জন্যও এই যাত্রা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। ফাইন্যানশিয়াল টাইমস-এর তথ্য অনুযায়ী, হরমুজগামী ট্যাংকারের যুদ্ধঝুঁকি বিমার খরচ কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২ কোটি ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ট্যাংকারের ভাড়াও রেকর্ড পর্যায়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে বিপজ্জনক জলপথে নাবিক ধরে রাখতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে হরমুজ পারাপার এখন শুধু সামরিক ও জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয় নয়; এটি বৈশ্বিক শিপিং খাতের জন্যও এক নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে।
সময়ের আলো/জেডি