রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে অতীতে সংঘটিত অনিয়ম ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটি। একই সঙ্গে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রাপ্য প্লট দ্রুত নিশ্চিত করতে বলেছে কমিটি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। সংসদ সচিবালয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে রাজউকের সার্বিক কার্যক্রম, চলমান আবাসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠক সূত্র জানায়, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত পূর্বাচলে রাজউকের বরাদ্দ দেওয়া প্লট বাতিলের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। প্লট বাতিলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায়, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।
এ সময় রাজউকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকায় আর প্লট বরাদ্দ দেওয়া যাবে না। এর পরিবর্তে অ্যাপার্টমেন্ট ভবন নির্মাণ করে ফ্ল্যাট দেওয়া যেতে পারে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রাপ্য প্লট দ্রুত নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অতীতে প্লট বরাদ্দে সংঘটিত অনিয়ম ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
নতুন ভূমিনির্ভর প্রকল্পের পরিবর্তে বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের মাধ্যমে আবাসনসুবিধা সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেও বলা হয়েছে।
রাজধানীতে অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবন নির্মাণ এবং আবাসিক এলাকায় অনুমোদনবহির্ভূত বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। আবাসন উন্নয়নকারীদের মাধ্যমে গ্রাহক হয়রানি বন্ধে নিয়মিত নজরদারি, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে রাজউককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পিত ও টেকসই নগরায়ণের লক্ষ্যে সমন্বিত সেবাব্যবস্থা ও ভূগর্ভস্থ তার স্থাপন, নতুন বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত শৌচাগার ও নামাজের স্থান নিশ্চিতকরণ এবং ঢাকার লেক সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি ঢাকা শহরে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সুপারিশ করা হয়েছে।
নিরীক্ষা কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত নিরীক্ষা সম্পন্ন এবং নিরীক্ষা আপত্তি নিষ্পত্তির তাগিদ দেওয়া হয়।
কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
সময়ের আলো/এসএকে