সিলেট থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের নারী ফুটবলে নতুন প্রতিভা খোঁজার উদ্যোগ। তৃণমূল পর্যায় থেকে সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় তুলে এনে জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পাইপলাইন শক্তিশালী করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ট্যালেন্ট হান্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করেছেন জাতীয় নারী ফুটবল দলের কোচ পিটার বাটলার।
পরিকল্পনার প্রথম ধাপে শনিবার ও রোববার সিলেটে হবে দুদিনের ট্যালেন্ট হান্ট। সেখানে অনূর্ধ্ব-১৭ পর্যায়ের মেয়েদের নিজেদের ফুটবল দক্ষতা দেখানোর সুযোগ থাকবে। স্থানীয় শহর ও আশপাশের এলাকার সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে ভবিষ্যতের জন্য প্রতিভা বাছাই করা হবে।
সিলেটের কার্যক্রমকে বিচ্ছিন্ন কোনো আয়োজন হিসেবে দেখছেন না বাটলার। বরং এটিকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য অঞ্চলকেও এই উদ্যোগের আওতায় এনে ঢাকার বাইরের মেয়েদের জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসার সুযোগ তৈরি করতে চান ইংলিশ এই কোচ। বিশেষ করে অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড় খুঁজে বের করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। তৃণমূল থেকে পাওয়া প্রতিভাবানদের পর্যবেক্ষণে রেখে বয়সভিত্তিক জাতীয় দলের কাঠামোর মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে সিনিয়র জাতীয় দলের জন্য প্রস্তুত করতে চান বাটলার।
বাংলাদেশের নারী ফুটবলে নিয়মিত প্রতিভা অন্বেষণের কার্যক্রম খুব একটা দেখা যায় না। ঢাকার বাইরে থাকা অনেক প্রতিভাবান মেয়ের জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগও সীমিত। বাটলারের পরিকল্পনায় তাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় খুঁজে বের করাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আফ্রিকায় কাজ করার সময় তৃণমূল পর্যায়ে ট্যালেন্ট হান্টের মাধ্যমে খেলোয়াড় খোঁজার অভিজ্ঞতা রয়েছে বাটলারের। সেই অভিজ্ঞতাই এবার বাংলাদেশের নারী ফুটবলে কাজে লাগাতে চান তিনি। তার লক্ষ্য, বর্তমান জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভরশীল না থেকে ভবিষ্যতের জন্য নিয়মিতভাবে নতুন খেলোয়াড় তৈরির একটি পথ তৈরি করা।
নারী ফুটবলে নিয়মিত প্রতিযোগিতার ঘাটতি এবং নারী লিগের অনিয়মিত আয়োজনের কারণে নতুন খেলোয়াড় উঠে আসার সুযোগও সীমিত। এমন বাস্তবতায় বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিভা খুঁজে বের করে তাদের পর্যবেক্ষণ ও উন্নয়নের আওতায় আনার উদ্যোগটি জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।
সময়ের আলো/আতা