ইতিহাস অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে, শক্তির হিসাবেও অনেক এগিয়ে তারা। তার ওপর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নামছে বাংলাদেশ নারী দল। বাস্তবতা তাই কঠিন। তবে সেই কঠিন সমীকরণকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নয়, পুরো দল একসঙ্গে জ্বলে উঠলেই শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে চমকে দেওয়া সম্ভব বলে বিশ্বাস তার।
নারী ক্রিকেটে বাংলাদেশের সময়টা এখন মোটেও স্বস্তির নয়। ব্যর্থ এশিয়া কাপ ও এশিয়ান গেমসের পর ড্রেসিংরুম নিয়েও এসেছে অস্বস্তির নানা খবর। এর মধ্যেই সামনে নতুন পরীক্ষা। আজ ব্রিসবেনে শুরু হবে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে।
মাঠের বাইরের সব আলোচনা পেছনে ফেলে এখন মাঠেই নিজেদের উত্তর দিতে চান জ্যোতি। তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুরো দল হিসেবে নিজেদের সামর্থ্য মেলে ধরা।
জ্যোতি বলেন, ‘বর্তমানের দিকে মনোযোগ দেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই পুরো দল হিসেবে খেলতে। আমরা বিশ্বাস করি, যখন দল হিসেবে খেলি এবং সবাই একসঙ্গে পারফর্ম করি, তখন যেকোনো দলকেই চমকে দিতে পারি।’
অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন বাংলাদেশের জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তবে সেই চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখেনি টাইগ্রেসরা। অনুশীলনের পাশাপাশি একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে উইকেট ও কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে দল।
জ্যোতির ভাষ্যে, ‘এখানকার কন্ডিশন আমাদের থেকে পুরোপুরি ভিন্ন। তাই আমরা সেভাবেই নিজেদের প্রস্তুত করার চেষ্টা করেছি। কয়েকটি অনুশীলন সেশন করেছি এবং এখানে একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছি। এতে উইকেট সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পেয়েছি। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি মানসিকতার ওপর নির্ভর করবে, আমরা কীভাবে ম্যাচটি খেলতে চাই। আমরা এটির জন্য সত্যিই মুখিয়ে আছি।’
দীর্ঘদিন পর ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ নারী দল। আর ফেরার মঞ্চটাও বেশ কঠিন। তবে ওয়ানডে ফরম্যাটে নিজেদের সামর্থ্যরে ওপর আস্থা রয়েছে জ্যোতির। দেশের মাটি কিংবা বিদেশ, এই ফরম্যাটে বাংলাদেশ ভালো করতে পারে বলেই মনে করেন তিনি।
‘এটাই এমন একটি ফরম্যাট, যেখানে আমরা খুব ভালো খেলি। দেশের মাটিতে হোক কিংবা দেশের বাইরে, এই ফরম্যাটে আমাদের সামর্থ্য আছে। আমাদের দলে এই ফরম্যাটে ভালো খেলা কয়েকজন বিশেষজ্ঞ খেলোয়াড়ও আছেন। তাই আমরা মাঝের সময়টায় নিজেদের পরিকল্পনা ঠিকভাবে কাজে লাগাতে চাই। বিষয়টি আসলে মানসিকতার ওপর নির্ভর করছে। আমরা এখানে ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে চাই।’
শক্তির বিচারে অস্ট্রেলিয়া অনেক এগিয়ে। কিন্তু ক্রিকেটে দলীয় পারফরম্যান্সই পারে হিসাব বদলে দিতে। সেই বিশ্বাস নিয়েই ব্রিসবেনে নামছে জ্যোতির বাংলাদেশ। এবার সেই বিশ্বাস মাঠে কতটা বাস্তব রূপ নেয়, সেটিই দেখার।
সময়ের আলো/আতা