সাভারের আশুলিয়ায় তুলা ও ঝুটের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে অন্তত ১৯টি তুলার গোডাউন এবং দুটি শ্রমিক কলোনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া পাশের দুটি ঝুটের গুদাম ও একটি বসতবাড়িতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট কাজ করছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত পৌনে ১০টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার কাঁঠালতলা মোড়ে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে একটি তুলা ও ঝুটের গুদামে হঠাৎ আগুন দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে আগুন আশপাশের গুদাম ও বসতবাড়িতে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
খবর পেয়ে জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের দুটি ও ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তবে বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়কে তীব্র যানজটের কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়। এতে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ ব্যাহত হয়।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, আগুনে অন্তত ১৫টি বসতকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গুদামগুলোতে বিপুল পরিমাণ কাটা কাপড় ও তুলাজাতীয় পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় লোকজনও পানি ও বালু দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান।
জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ফাইটার মামুন হোসেন জানান, রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় একটি তুলার গোডাউনে আগুন লাগার খবর পান তাঁরা। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাবুদ্দিন জানান, বাইপাইল থেকে জামগড়া পর্যন্ত তীব্র যানজট থাকায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি হয়েছে। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে জোরালোভাবে কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
আশুলিয়া জামগড়া পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) আবু তালেব বলেন, কাঁঠালতলা মোড়-সংলগ্ন একটি ঝুটের গুদামে আগুন লেগেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে কাজ শুরু করেছে। আগুন আশপাশের বসতবাড়িতেও ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছেন।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সময়ের আলো/এসএকে