ঢাকের বাদ্য, চণ্ডীপাঠ আর শঙ্খধ্বনিতে দেবী দুর্গাকে আবাহনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর ঐতিহাসিক মেধস আশ্রমে উদযাপিত হয়েছে মহালয়া। দুর্গাপূজার উৎপত্তিস্থল হিসেবে পরিচিত করলডেঙ্গা সন্ন্যাসী পাহাড়ের এ আশ্রমে দিনভর ভিড় করেন ভক্ত ও পুণ্যার্থীরা। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সূচনা হয় দেবীপক্ষের।
শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোরে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে মহালয়ার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন আশ্রমের অধ্যক্ষ ও সেবায়েত শ্রীমৎ দীপানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজ। পরে শ্রীশ্রী চণ্ডীপাঠ, চণ্ডীপূজা ও যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়।
দেবীর আগমনি বার্তায় সকাল থেকেই আশ্রম প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা। দিনভর তাঁদের পদচারণায় মুখর ছিল পুরো এলাকা। দুপুরে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোতায়েন ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
সনাতন ধর্মীয় আখ্যান অনুযায়ী, রাজ্য হারিয়ে রাজা সুরথ এবং স্বজনদের দ্বারা বিতাড়িত সমাধি বৈশ্য আশ্রয় নিয়েছিলেন মেধস মুনির আশ্রমে। তাঁদের দুর্দশা দেখে মেধস মুনি দুর্গাপূজার পরামর্শ দেন। পরে তাঁর নির্দেশনা অনুসারে মৃন্ময়ী প্রতিমা তৈরি করে দুর্গাপূজা করেন রাজা সুরথ ও সমাধি বৈশ্য। দেবীর আশীর্বাদ লাভের এই কাহিনি দুর্গাপূজার প্রচলনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
গবেষক সচ্চিদানন্দ রায় চৌধুরীর তথ্যমতে, প্রায় ১৪৩ বছর আগে বেদানন্দ স্বামী বিভিন্ন শাস্ত্র অধ্যয়ন ও দৈবক্ষমতার মাধ্যমে এ স্থানকে মেধস মুনির আশ্রম হিসেবে শনাক্ত করেন। এরপর থেকে বোয়ালখালীর করলডেঙ্গা পাহাড়ের এ আশ্রমে সাড়ম্বরে মহালয়া উদযাপিত হয়ে আসছে।
ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক তাৎপর্যের কারণে মেধস আশ্রম সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হওয়ায় দুর্গাপূজাকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ।
সময়ের আলো/আতা