ভারতের দিল্লিতে সিজেপি ও বিরোধী দলের নেতাদের আটক এবং বিক্ষোভে বাধা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। আটক নেতাদের আগামীকালের মধ্যে মুক্তি দেওয়া না হলে অনশন বা পদযাত্রা শুরু করার কথা বিবেচনা করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওয়াংচুক বলেন, তিনি জানতে পেরেছেন আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া নেতাদের আটক করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আটক ব্যক্তিদের দ্রুত মুক্তি দেওয়া হবে।
দিল্লির যন্তর মন্তরে নির্বাচনসংক্রান্ত অনিয়ম এবং নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ক্ষমতাসীন বিজেপির ‘যোগসাজশের’ অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করতে চেয়েছিলেন সিজেপি ও বিরোধী দলের নেতারা। তবে তাঁদের বিক্ষোভ করতে দেওয়া হয়নি। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সিজেপির নেতা অভিজিৎ দীপকও রয়েছেন।
ওয়াংচুক বলেন, ‘আগামীকালের মধ্যে তাদের মুক্তি দেওয়া না হলে আমাকে অনশন বা পদযাত্রার কথা বিবেচনা করতে হবে।’ তিনি ভারতের পরিস্থিতিকে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ বলেও অভিহিত করেন।
এর আগে শুক্রবারের পোস্টে ওয়াংচুক রাজনীতির বাইরেও জীবনের অন্যান্য দুঃখ-কষ্টের কথা উল্লেখ করে ফয়েজ আহমদ ফয়েজের একটি বিখ্যাত শেরের পরিবর্তিত রূপ উদ্ধৃত করেন। ওই দিন তিনি জানিয়েছিলেন, লাদাখে গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকায় বিক্ষোভে অংশ নিতে পারছেন না। তবে পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে এখন তিনি অবস্থান জানাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন।
লাদাখে শীত আসার আগে পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃত্রিম হিমবাহ তৈরি এবং হিমবাহ হ্রদের আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় কাজ করছেন বলে জানান ওয়াংচুক। হিমালয়ে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা ২০০টির বেশি হিমবাহ হ্রদকে তিনি ‘জলবোমা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি তরুণদের সব পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ থাকার অনুরোধ করেন। মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলনের আদর্শের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
এর আগে জুলাইয়ে সিজেপির একটি বিক্ষোভে ওয়াংচুক অনশনে বসেছিলেন। অনশনের ২১তম দিনে তাকে আটক করা হয়। পরে ২০ জুলাইয়ের বড় পদযাত্রা এবং ২৫ জুলাই তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ করেন।
সময়ের আলো/জেডি