চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে যৌতুকের দাবিতে চন্দনা শীল (২২) নামের গৃহবধূকে গলায় ওড়না প্যাঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের স্বামী শিমুল শীলসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৭। শুক্রবার রাতে সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার অন্য তিনজন হলেন—নিহতের ভাশুর পীযূষ শীল প্রকাশ প্রিতম (২৩), নজরুল ইসলাম (৩৮) এবং মো. ইলিয়াস (৩৫)।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে সীতাকুণ্ডের বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের টেরিয়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনের একটি জমির আইল থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা নিহতের পরিচয় শনাক্ত করেন। চন্দনা শীল সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম সৈয়দপুর এলাকার তেজেন্দ্র দাশের মেয়ে।
পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বড়ো কুমিরা এলাকার দিলীপ শীলের ছেলে শিমুল শীলের সঙ্গে চন্দনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শিমুল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা চার লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে চন্দনার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। নির্যাতনের কারণে একপর্যায়ে তিনি স্থানীয় একটি কারখানায় শ্রমিকের কাজ শুরু করেন।
হত্যার আগের দিন গত বৃহস্পতিবারও চন্দনা শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে স্বজনেরা তাঁকে আশ্বস্ত করে স্বামীর বাড়িতে ফিরিয়ে দেন। বাড়ি ফেরার পথে টেরিয়াইল বাজার এলাকায় স্বামী ও অন্যদের সঙ্গে চন্দনার তীব্র কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে চন্দনাকে টেরিয়াইল স্কুলের পেছনে নিয়ে গিয়ে গলায় ওড়না প্যাঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২-৩ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বড়ো দারোগারহাট এলাকার কুমিরা হাইওয়ে থানার সামনে থেকে নিহতের স্বামী শিমুল শীলকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে শিমুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টেরিয়াইল বাজারের লাকি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে প্রিতমকে এবং বারৈয়াঢালার মান্দারীটোলা ও ফকিরহাট এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে নজরুল ইসলাম ও মো. ইলিয়াসকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার আসামিদের পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সীতাকুণ্ড মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সময়ের আলো/এনএন