অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ ড্র করে নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে আবুধাবিতে পা রেখেছিল বাংলাদেশ। সেই পারফরম্যান্সের পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টেও ভালো কিছুর প্রত্যাশা ছিল। ম্যাচের আগে আলোচনায় ছিল, লড়াই হয়তো খুব বেশি দীর্ঘ হবে না। কিন্তু মাঠের চিত্র এখন ভিন্ন। বাংলাদেশের ব্যাটারদের ৩৪৬ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিনজুড়ে স্বস্তিতে ব্যাটিং করেছে আফগানিস্তান। বোলাররা উইকেটের জন্য ছটফট করলেও প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার মতো ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি। দিন শেষে ৪ উইকেটে ২১১ রান তুলে ম্যাচে ফেরার পথ তৈরি করেছে আফগানরা।
দ্বিতীয় দিনে ৭৯ ওভার ব্যাটিং করে আফগানিস্তান। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের সংগ্রহ টপকাতে তাদের প্রয়োজন আর ১৩৫ রান। হাতে রয়েছে ছয় উইকেট। ফলে তৃতীয় দিনের শুরুতেই বাংলাদেশকে দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। তা না হলে প্রথম ইনিংসে পাওয়া লড়াইয়ের পুঁজি দ্রুতই মøান হয়ে যেতে পারে।
বাংলাদেশের বোলিং পরিসংখ্যানেও ফুটে উঠেছে দিনটির হতাশা। হাসান মাহমুদ ১৬ ওভার বোলিং করে পেয়েছেন একটি উইকেট। এবাদত হোসেন ১১ ওভারে নিয়েছেন দুটি। তিন স্পিনার দীর্ঘ সময় বোলিং করলেও সাফল্য পেয়েছেন কেবল মেহেদী হাসান মিরাজ, তার শিকার একটি উইকেট। তাইজুল ইসলাম ২১ ওভার বল করেও উইকেট পাননি। এমন দিন খুব কমই দেখেছেন এই অভিজ্ঞ স্পিনার। নাঈম হাসান করেছেন ১০ ওভার, আর পার্টটাইমার মুমিনুল হক বোলিং করেছেন এক ওভার।
বিশেষ করে তাইজুলের উইকেটশূন্য দিনটি বাংলাদেশের জন্য হতাশার। দীর্ঘ স্পেলে বোলিং করেও প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের ভুল করতে বাধ্য করতে পারেননি তিনি। স্পিনারদের কাছ থেকে উইকেটের প্রত্যাশা থাকলেও আফগান ব্যাটাররা পরিস্থিতি সামলে খেলেছেন। ফলে পেসারদের ওপরই বেশি নির্ভর করতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
তবে শুধু বোলিংয়ের ধার কম থাকাই নয়, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত গ্রহণেও ভুল করেছে বাংলাদেশ। ইনিংসের শুরুতেই সেদিকউল্লাহ আতালকে ফেরানোর দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিলেন হাসান মাহমুদ। তার বলে আতালের ব্যাট ছুঁয়ে বল চলে যায় উইকেটকিপার লিটন দাসের হাতে। বোলার ও ফিল্ডাররা জোরালো আবেদন করলেও আম্পায়ার সাড়া দেননি।
বাংলাদেশ রিভিউ না নেওয়ায় সেই সিদ্ধান্ত আর চ্যালেঞ্জ করা হয়নি। পরে রিপ্লেতে দেখা যায়, বল ব্যাটের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আলট্রাএজে স্পষ্ট স্পাইক ছিল। অর্থাৎ, বল ব্যাটের কানায় লেগেছিল। একই সময়ে ব্যাট প্যাডে লাগায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, আর তাতেই হাতছাড়া হয় গুরুত্বপূর্ণ একটি উইকেটের সুযোগ।
বিষয়টি আরও হতাশার, কারণ হাসানের করা আগের ওভারেই রিভিউ নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই রিভিউয়ে দেখা যায়, বল ব্যাটের কাছ দিয়েও যায়নি। একদিকে সম্ভাব্য উইকেটের ক্ষেত্রে রিভিউ না নেওয়া, অন্যদিকে কাজে না লাগা রিভিউ, দুই ঘটনাই বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
টেস্ট ক্রিকেটে শুধু ভালো বল করলেই হয় না, সুযোগ তৈরি হলে সেটিকে কাজে লাগানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আবুধাবিতে দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশ সেই জায়গাতেই পিছিয়ে পড়েছে। আফগানিস্তান দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছে, আর বাংলাদেশের বোলাররা কাঙ্ক্ষিত চাপ তৈরি করতে পারেননি।
এখন তৃতীয় দিন বাংলাদেশের সামনে পরিষ্কার সমীকরণ, দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে আফগানিস্তানকে প্রথম ইনিংসে এগিয়ে যেতে না দেওয়া। নতুন দিনের শুরুতে বোলাররা ঘুরে দাঁড়াতে পারেন কি না, তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে ম্যাচের পরবর্তী গতিপথ।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে