চ্যাটজিপিটি ও কোডেক্স দিয়ে তৈরি লেখায় একটি নতুন ধরনের অদৃশ্য জলছাপ যুক্ত করতে যাচ্ছে ওপেনএআই। ‘টেক্সটগ্রেইন’ নামের এই প্রযুক্তির মাধ্যমে এআই দ্বারা তৈরি লেখা সহজে শনাক্ত করা যাবে। ইউরোপীয় কমিশনের স্বেচ্ছামূলক এআই স্বচ্ছতা আচরণবিধির অংশ হিসেবে প্রাথমিক পর্যায়ে এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্যবহারকারীদের জন্য চালু করা হচ্ছে। গুগল, অ্যানথ্রপিক, মেটা ও মাইক্রোসফটের মতো অন্যান্য শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।
টেক্সটগ্রেইন প্রযুক্তিতে লেখায় অতিরিক্ত শব্দ বা গোপন কোনো অক্ষর যোগ করা হয় না। বরং এআই মডেলের শব্দ নির্বাচনের ধাঁচে সূক্ষ্ম পরিবর্তন এনে একটি বিশেষ পরিসংখ্যানগত সংকেত তৈরি করা হয়, যা পরবর্তীতে নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব।
ওপেনএআইয়ের পরীক্ষার তথ্যানুযায়ী ২০০ শব্দের লেখায় প্রায় ৮০ শতাংশ এবং ৪০০ শব্দের লেখায় প্রায় ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে এই জলছাপ সফলভাবে ধরা পড়ে। তবে গণিত বা কাঠামোগত লেখায় শব্দ চয়নের সুযোগ কম থাকায় শনাক্তের হার কিছুটা কমে যায়।
এ ছাড়া লেখা সম্পাদনা করলেও জলছাপের কার্যকারিতা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পায়। উদাহরণস্বরূপ ৪০০ শব্দের লেখায় ২৫ শতাংশ শব্দ পরিবর্তন করলে শনাক্তকরণের হার ৯২ শতাংশ থেকে মাত্র ১৭ শতাংশে নেমে আসে।
অনুবাদ, অতিরিক্ত সম্পাদনা বা অন্য এআই দিয়ে পুনর্লিখনের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি শতভাগ নির্ভুল তথ্য নাও দিতে পারে। আবার কোনো লেখায় জলছাপ না থাকা মানেই তা মানুষের লেখা— এমনটি নিশ্চিত করা যায় না।
এটি লেখার মালিকানা বা সৃজনশীলতার পরিমাণও নির্ধারণ করতে পারে না। এসব সীমাবদ্ধতার কারণে শুরুতেই এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে না। কেবল অনুমোদিত গবেষক ও বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানগুলোই এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ পাবে। তবে ভবিষ্যতে এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে ওপেনএআইয়ের।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও