রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে দেড় ঘণ্টার ফোনালাপ হয়েছে। আলোচনা শেষে ফোন রাখার ক্ষেত্রেও দুই নেতা কেউই আগে উদ্যোগ নিতে চাননি। ক্রেমলিন এই কথোপকথনকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করেছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রুশ বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
রুশ প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানান, শুক্রবারের ফোনালাপে দুই নেতার কেউই প্রথমে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে চাননি। শেষ পর্যন্ত প্রায় একই সময়ে তারা ফোন রাখেন।
ফোনালাপে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আলোচনা হয়। রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈশ্বিক বাজারে ডিজেল সরবরাহের বিষয়ে দুই নেতা একমত হয়েছেন। জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্যে রুশ জ্বালানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ডিজেল সরবরাহের সিদ্ধান্তকে ‘দুর্বল সিদ্ধান্ত’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এটি এমন একটি যুদ্ধে বিনিয়োগ, যে যুদ্ধের অবসান হওয়া প্রয়োজন।
ক্রেমলিন জানিয়েছে, ফোনালাপের বড় অংশজুড়ে ছিল ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ। তবে শিগগিরই রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা আবার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন পুতিন।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে পশ্চিমা দেশগুলো মস্কোর ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। ইউক্রেনের চারটি অঞ্চল নিয়ে রাশিয়ার দাবি শান্তি আলোচনার অন্যতম বাধা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে মার্কিন, ইউক্রেনীয় ও ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একটি অভিন্ন শান্তি প্রস্তাব তৈরির লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবটি রাশিয়ার কাছে উপস্থাপন করা হতে পারে।
সূত্র : রয়টার্স
সময়ের আলো/এমকে