রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। নতুন সচিবালয় নির্মিত হলে আবদুল গনি রোডে অবস্থিত বর্তমান সচিবালয় এলাকায় আর কোনো নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে না।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। সভায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদফতর ও স্থাপত্য অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিদ্ধান্তের পরদিনই প্রকল্পটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত করার জন্য পরিকল্পনা কমিশনকে চিঠি দিয়েছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, সরকার দ্রুত প্রকল্পের কাজ শুরু করে বর্তমান মেয়াদেই দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে চায়।
বৈঠকে উপস্থিত স্থাপত্য অধিদফতরের প্রধান স্থপতি আসিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে তিনটি পৃথক নকশা উপস্থাপন করা হয়েছিল। আলোচনার পর একটি নকশার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। ওই নকশার ভিত্তিতেই প্রকল্প প্রণয়ন করা হবে। নকশাগুলো জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায়ও উপস্থাপন করা হবে।
গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও একাধিকবার সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০১৫ সালে এ জন্য ২ হাজার ২০৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। তখন ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, জিয়া উদ্যানের উত্তর পাশে এবং বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পশ্চিম দিকে, যেখানে নিয়মিত বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হয়, সেই ৩২ একর জমিতে সচিবালয় নির্মাণের কথা ছিল। জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি লুই আই কানের মূল পরিকল্পনা অনুসরণ করে ভবনগুলো নির্মাণের পরিকল্পনাও করা হয়েছিল।
সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের স্থপতি লুই আই কানের তৈরি জাতীয় সংসদ ভবনসহ শেরেবাংলা নগরের মূল নকশা দেশে আনতে চার লাখ ডলার ব্যয় করা হয়। সেই নকশা অনুযায়ী, ১৪ তলা ভিত্তির ওপর নয়তলা বিশিষ্ট চারটি প্রধান ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ওই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।
অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরেও সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। পরে বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ে সচিবালয়ের ভেতরে ২১ তলা ভবন নির্মাণে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। গত ২৬ এপ্রিল একনেক সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হলেও অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। ওই সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করতে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও স্থাপত্য অধিদফতরকে নির্দেশ দেন।
সচিবালয়ের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ ও নির্মাণ পরিকল্পনা তৈরিতে গত পাঁচ মাসে অংশীজনদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনটি বিকল্প নকশা উপস্থাপন করে স্থাপত্য অধিদফতরের তিনটি দল। সেখান থেকে একটি নকশা চূড়ান্ত করে তার ভিত্তিতে প্রকল্প তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে গণপূর্ত অধিদফতরকে।
প্রাথমিক হিসাবে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে প্রকল্প প্রণয়ন, যাচাই-বাছাই ও একনেকের অনুমোদনের পর ব্যয় ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে।
সূত্র : প্রথম আলো
সময়ের আলো/কেএইচও