‘রিয়াদে নেমেছি, জেদ্দায় পৌঁছে ফোন দেব’ স্বামী শাহেদ আহম্মেদের (৩২) সঙ্গে মুঠোফোনে এটাই ছিল কাকলি বেগমের শেষ কথা। কিন্তু এরপর স্বামীর কণ্ঠ আর শুনতে পারেননি কাকলি। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে ফোনে এল স্বামীর মৃত্যুর খবর। তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবারে এখন শোকের মাতম চলছে।
নিহত শাহেদের বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। তার বাবা রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে থাকেন।
রোববার প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার স্থানীয় সময় বেলা ৩টা ২০ মিনিটে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ওই সময় সেখানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রীরা অপেক্ষা করছিলেন। এই দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশিসহ মোট ১২ জন নিহত হন। নিহত দুই বাংলাদেশির একজন মো. শাহেদ আহম্মেদ, আর অন্যজন কুমিল্লার মাওলানা নাসরুল্লাহ ।
পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুই বছর আগে শাহেদ বাবার কাছে সোদি যান। এক মাস আগে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন শাহেদ। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে ছুটি শেষে গত শুক্রবার ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। পরদিন ১০ অক্টোবর তার সৌদি আরবে যাওয়ার ফ্লাইট ছিল।
স্বামীর মৃত্যুর খবরে কাকলির যেন সবকিছু থমকে গেছে। যে মানুষটি এক মাস আগে ছুটি কাটিয়ে বাড়ি থেকে বিদায় নিয়েছিলেন, তার আর জীবিত ফিরে আসা হবে না—এ কথা মেনে নিতে পারছেন না তিনি। এখন স্বামীর লাশ দেশে ফেরার অপেক্ষায় দিন কাটছে তার। এ দম্পতির দুই ছেলে—কাওছার ও আবদুল্লাহ। তাদের বয়স যথাক্রমে ১১ ও ৬ বছর।
শাহেদের চাচাতো ভাই মাসুম রানা বলেন, শাহেদের বাবা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে থাকেন। বাবার কাছে গিয়ে দুই বছর আগে শাহেদও সৌদি আরবে পাড়ি জমান। পরিবারের সদস্যরা এখন তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় রয়েছেন।
সরকারি উদ্যোগে শাহেদের মরদেহ দেশে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলেন শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাইফুর রহমান। তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
সময়ের আলো/আতা