ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও হত্যা মামলার আসামি বিল্লাল মিয়াকে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়ায় বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
এ বিষয়ে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর কামরুজ্জামান কবির বলেন, উপজেলা কমিটির মাধ্যমে জেলায় তালিকা পাঠানো হয়। সেখান থেকে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হলে ডিলার অনুমোদন দেওয়া হয়। ঘটনাটি আমরা শুনেছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সুপারিশ উপজেলা প্রশাসন থেকে দেওয়া হয়নি। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পাঠানো হয়েছে।
সরাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একরাম হোসেন জানান, সার ডিলারের তালিকা তৈরির সময় ইউএনও এবং তার কাছে রাজনৈতিক সুপারিশে কয়েকজনের নাম এসেছিল। তবে ওই ডিলারের জন্য তিনি সুপারিশ করেননি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, বিতর্কিত তালিকাটি ইউএনওর পাঠান তালিকায় ছিল না। আইনবহির্ভূত কিছু হয়ে থাকলে তা বাদ দেওয়া হবে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, বিল্লাল মিয়ার বিরুদ্ধে সরাইল থানায় কোনো মামলা নেই। যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা রয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে এ বিষয়ে তাদের অবহিত করা হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিল্লাল মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয় অনুমোদিত সার ডিলারের তালিকায় উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নে মেসার্স বিলাল এন্টারপ্রাইজের মালিক বিল্লাল মিয়ার নাম আসে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, তিনি যুবলীগের কর্মী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও হত্যা মামলার আসামি। মামলার পর আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তিনি ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেন। সারা দেশে নতুন সার ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়ায় উপজেলা কমিটির মাধ্যমে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজনের নাম জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটিতে সুপারিশ করা হয়। পরে সেই তালিকা কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠান হয়। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হলে সরাইলে এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
সরাইল উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক রিফাত বিন জিয়া বলেন, কী মানদণ্ডে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সময়ের আলো/আতা