ভারতের সংবিধান রক্ষা, গণতন্ত্রের মর্যাদা বজায় রাখা, ভোট চুরি বন্ধ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) স্থগিত এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ফের বড় ধরনের বিক্ষোভ-মিছিলের ডাক দিয়েছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’।
সোমবার (১২ অক্টোবর) এ কর্মসূচিতে বিরোধী দল, ছাত্র-যুবসমাজ, নাগরিক সমাজের সংগঠন এবং গণতন্ত্রে বিশ্বাসী মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবতকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাহুল বলেন, তারা ভারতের কণ্ঠরোধ করতে পারবেন না। দিল্লিতে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে শিক্ষার্থী ও নারীদের ওপর পুলিশ ও বিজেপির কর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার (১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দিল্লিতে নতুন করে বিক্ষোভ-মিছিলের ডাক দেন রাহুল গান্ধী।
পোস্টে তিনি বলেন, ‘গতকাল দিল্লিতে দেশের তরুণেরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে নেমেছিলেন। তাঁদের হৃদয়ে কেবল ভালোবাসাই ছিল, ঘৃণা বা ক্ষোভ নয়। কিন্তু পুলিশ ও বিজেপির গুন্ডারা তাঁদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমরা এমন ভারত চাই না।’
সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে মিছিল করার পরিকল্পনা করেছে ইন্ডিয়া জোটের দলগুলো। সেখানে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়ার কথা রয়েছে। এতে ভোট চুরি বন্ধ, এসআইআর স্থগিত এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানানো হবে।
লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আগামীকাল (সোমবার) আমরা ভারতীয় হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করব। দল, নারী-পুরুষ, জাতপাত, সম্প্রদায় ও রাজ্যের বিভেদ ভুলে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব। তরুণেরা, সব বিরোধী দল, নাগরিক সমাজের সংগঠন এবং যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন ও ভারতের সংবিধানের পক্ষে দাঁড়ান, তারা আমাদের সঙ্গে হাঁটবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের মানুষের পক্ষ থেকে আমরা প্রধান বিচারপতির কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেব। এতে ভোট চুরি বন্ধ, এসআইআর স্থগিত এবং জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানানো হবে।’
মোদি, অমিত শাহ, অজিত দোভাল ও মোহন ভাগবতকে উদ্দেশ করে রাহুল বলেন, ‘এই কাপুরুষরা আমাদের ভয় দেখাতে পারবে না। তাঁদের সরে দাঁড়াতেই হবে। ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও দেশপ্রেমের চেতনা নিয়ে আমরা একসঙ্গে মিছিল করব। ভয় পাবেন না। আগামীকাল পুরো ভারত সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করবে।’
এর আগে রাহুল গান্ধী জানিয়েছিলেন, ১২ অক্টোবর আবারও রাজপথে নামবে ইন্ডিয়া জোট। দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ ও ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কর্মীরা শিক্ষার্থী ও নারীদের ওপর সহিংসতা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কংগ্রেসের এই নেতা জানান, বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা এবং তাঁদের সঙ্গে পুলিশের আচরণের বিষয়ে জবাবদিহি চাইতে সোমবার প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করবে বিরোধী দলগুলো।
রাহুল বলেন, ‘সোমবার আমরা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গেও দেখা করব। আমরা দাবি জানাব, দিল্লির রাজপথে যখন সংবিধানকে ছিন্নভিন্ন করা হচ্ছে এবং গণতন্ত্রকে পদদলিত করা হচ্ছে, তখন আইনের রক্ষকেরা চোখ বন্ধ করে বসে থাকতে পারেন না।’
সংবিধান রক্ষা, গণতন্ত্রের মর্যাদা বজায় রাখা এবং ভারতীয় জনগণের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে রাহুল বলেন, প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। তার ভাষায়, ‘লড়াই থামবে না।’
সময়ের আলো/এসএকে