ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে দেশজুড়ে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন তরুণ ও বিরোধী দলের নেতারা। রাজপথের বিক্ষোভের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। এই কৌশলকে বলা হচ্ছে ‘হাইব্রিড’ আন্দোলন।
রোববার (১১ অক্টোবর) দিল্লির কেন্দ্রস্থল থেকে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরা, সিপিআইএমের সংসদ সদস্য জন ব্রিটাসসহ বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ও ছাত্রনেতাকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুলিশি বাধায় ঐতিহাসিক প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে জমায়েত করতে না পারলেও দিল্লির বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট দলে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার, ভিডিও ও বার্তার মাধ্যমে তাঁরা আন্দোলনের খবর ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
আটক অবস্থায় ইনস্টাগ্রামে লাইভ করে নেহা বোরা প্রশ্ন তোলেন, ‘এই বাসে চারটি সেল বা খুপরি রয়েছে, যেখানে নিশ্বাস নেওয়ার মতো পরিবেশ নেই। আটক করার বাসগুলোকে কি কারাগারে রূপান্তর করা হচ্ছে?’
জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণারত শিক্ষার্থী নেহা বোরা রয়টার্সকে বলেন, ‘ভয় যেমন সংক্রামক, তেমনই আশাও সংক্রামক। জনগণ বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা হতাশা ও প্রতারণার ক্ষোভ বয়ে বেড়াচ্ছে।’
এর আগে শনিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রার চেষ্টা করলে অন্তত তিন হাজার আন্দোলনকারীকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁদের প্রায় সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কোকরোচ জনতা পার্টির সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘এই লড়াই কেবল শুরু। প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত দিল্লি থেকে শুরু করে পুরো দেশে এই আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে।’
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিজেপি আন্দোলনকে ‘বিদেশি শক্তির ভারত-বিরোধী ষড়যন্ত্র’ বলে সমালোচনা করেছে।
এদিকে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি দিতে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রার উদ্যোগ নিয়েছেন। বিরোধীদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন স্থগিত এবং ইভিএমের পরিবর্তে কাগজের ব্যালটে ভোটগ্রহণ।
সময়ের আলো/এমকে