ভারতে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে নরেন্দ্র মোদি সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা এবং বিরোধী নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের দূরত্ব দেশটির গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগ তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিরোধী নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের ক্ষেত্রে একাধিক শর্ত দিয়েছেন এবং নির্দিষ্ট প্রতিনিধি পাঠানোর কথা বলেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরোধী দলগুলোর প্রধান এবং সংসদ সদস্যরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কমিশনের আচরণ নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। প্রায় ৩০০ সংসদ সদস্যের প্রতিবাদের সময় কমিশন পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের কথা জানায়।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় মুসলিম, নারী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাদের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলে তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টিকে শুধু নির্বাচনী হিসাব-নিকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে দেখলে এর বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রভাব উপেক্ষিত হতে পারে। সমালোচকদের আশঙ্কা, এ ধরনের পদক্ষেপ সংখ্যালঘুদের নাগরিক অধিকার ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে দুর্বল করতে পারে।
তবে ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগের পরিসর, সংশোধন প্রক্রিয়ার প্রকৃত প্রভাব এবং সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর ওপর এর প্রভাব নির্ধারণে বিস্তারিত তথ্য ও স্বাধীন যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।
সময়ের আলো/এমকে