আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারির ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও যোগদান করেননি তানভীর হায়দার। এতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরীর কাঁধে পড়েছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি নিজের দায়িত্বের পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত ইউএনও ও পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। এক কর্মকর্তার ওপর একাধিক দায়িত্ব থাকায় নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সংস্থাপন শাখা থেকে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা তানভীর হায়দারকে আজমিরীগঞ্জের ইউএনও হিসেবে পদায়ন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
তার পরিচিতি নম্বর ১৮৯৫৬। এর আগে তিনি সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। প্রজ্ঞাপনে নতুন কর্মস্থলে তার পদায়নের আদেশ জনস্বার্থে অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
উপজেলা পরিষদের একটি সূত্র জানায়, সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে কর্মরত পদায়নকৃত কর্মকর্তা তানভীর হায়দার এখনো অবমুক্তি পাননি। এ কারণে তিনি নতুন কর্মস্থল আজমিরীগঞ্জে যোগদান করতে পারেননি। আশা করা হচ্ছে, আগামী মাসে তিনি যোগদান করবেন।
এর আগে গত ৯ আগস্ট আজমিরীগঞ্জের তৎকালীন ইউএনও এসএম রেজাউল করিম বদলিজনিত কারণে দায়িত্ব ছেড়ে চলে যান। তার বিদায়ের পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী ভারপ্রাপ্ত ইউএনওর দায়িত্ব পান। পাশাপাশি তিনি পৌর প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করছেন। ফলে ভূমি প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব একই কর্মকর্তাকে সামলাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে তাঁদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এক কর্মকর্তাকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হওয়ায় নিয়মিত কার্যক্রমে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্থানীয় পর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক সমন্বয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসির দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অন্যদিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে ভূমিসংক্রান্ত সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পৌর প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে জসিম উদ্দিন চৌধুরীকে।
সময়ের আলো/আতা